জুলাই আন্দোলনে আহত আরও ৭ জন সিঙ্গাপুরে

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২২ এএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চোখে আঘাত প্রাপ্ত সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০৫৮৪ ফ্লাইটে তারা সিঙ্গাপুর যান। সে দেশের সিঙ্গাপুর আই হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা হবে।

এ সাতজন রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারা হলেন আবদুল্লাহ আল বাকী, আকতার হোসেন, মো. ইয়ামিন, ফয়েজ আহমেদ, মিনহাজুল ইসলাম শুভ, মোহাম্মদ রমজান ও সালমান বিন শোয়াইব। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের হাতে ফ্লাইটের টিকিট তুলে দেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান ও জাতীয় নাগরিক কমিটির আহতদের চিকিৎসাবিষয়ক সেলের আহ্বায়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আহতদের চিকিৎসার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নির্দেশে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে সব সময় খোঁজখবর রাখেন। আমরা দ্রুত আরও কয়েকজনকে বিদেশে পাঠাব। আগামী সপ্তাহে খোকনকে রাশিয়ায় নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহতদের চিকিৎসাবিষয়ক সেলের আহ্বায়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, আমরা আহতদের চিকিৎসাবিষয়ক সেল সবসময় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছি। চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। আহতরা এ দেশের সেরা সন্তান। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা যেকোনো কিছু করতে পারি। যারা সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন, এজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসায় দেশের বাইরে পাঠাল সরকার। আরও ১৯ জনকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে সর্বশেষ গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে গুলিবিদ্ধ অটোরিকশাচালক আশরাফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড পাঠানো হয়। সে দেশের ভেজথানি হাসপাতালে তার চিকিৎসা হচ্ছে। তিনি রাজধানীর জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর গতকাল এক সঙ্গে সাতজনকে আঘাতপ্রাপ্ত চোখের উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর পাঠানো হলো।

এখন পর্যন্ত দুজন সুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন ও সাতজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১ জন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভাকারীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালান। আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নজিরবিহীন বলপ্রয়োগ করে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকার আহতদের চিকিৎসায় টিম গঠন করে এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের বিদেশে পাঠানোরও উদ্যোগ নেয় সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত