চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষি বাহিনী বিএসএফের গুলিতে গতকাল শনিবার ভোরে হাবিল আলী (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছে। হাবিল শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি লাম্বাপাড়ার বেলাল উদ্দীনের ছেলে।
গুলিবিদ্ধ হাবিলের দাবি, ভোরে সীমান্তসংলগ্ন গমের জমিতে পানি দিতে গেল বিএসএফ গুলি করে। তবে বিজিবি জানিয়েছে, রাতে সীমান্ত অতিক্রম করে চোরাচালান করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে আহত হয়েছে হাবিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, গতরাত সাড়ে ৩টার দিকে সাত থেকে আটজন চোরাকারবারি যুবক চোরাচালানের উদ্দেশে সীমান্তের ১৮০ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যায়। এ সময় ভারতের ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোপালনগর ক্যাম্পের সদস্যরা চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে ২ থেকে ৩ রাউন্ড গুলি করে। গুলির শব্দে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের কাছে গেলে চোরাকারবারিরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘তেলকুপি সীমান্ত ফাঁড়ির কমান্ডারের নেতৃত্বে দুটি টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল। গতরাতে ঘনকুয়াশা ছিল আমরা ২ থেকে ৩ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি’।
তেলকুপি সীমান্ত ফাঁড়ির ৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি কোনো কৃষক অবস্থান করছিল না, বলে মন্তব্য করেন ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ হাবিল ও তার পরিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভোরে হাবিল সীমান্তসংলগ্ন গমের জমিতে পানি দিয়ে গিয়ে বিএসএফের গুলির শিকার হন। হাবিল বলেন, ‘গমের জমিতে পানি দিতে গেছিলাম। আমার নিজস্ব মটর (পানি সেচে পাম্প) রয়েছে। ভোর সাডে ৫টার দিকে জমিতে পানি দেওয়ার জন্য গেছিলাম। বিএসএফ বর্ডারে দাঁড়িয়ে ছিল। শীত আর কুয়াশার কারণে আমি খেয়াল করিনি। পেছন দিক থেকে বিএসএফ আমাকে গুলি করে’।
স্থানীয়ারা জানায়, পিঠে বিএসএফে গুলি বিদ্ধ হয়ে আহত হাবিলকে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবির তেলকুপি সীমান্ত ফাঁড়ি ও গোপালনগর বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমন্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সীমান্তে গুলির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী জানান : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক যুবক আহত হয়েছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. শংকর কে বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, হাবিলের শরীরে গুলিবিদ্ধ থাকায় তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। তার পিঠের ডান পাশে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অপারেশনের পর আরও বিস্তারিত বলা যাবে।
