পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত ভিসা বন্ধ রাখায় চিকিৎসার জন্য চীন বাংলাদেশিদের জন্য বিকল্প হতে পারে। তবে তার চীন সফরে তিস্তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল রবিবার চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসার জন্য ভারতের বিকল্প হতে পারে চীনের কুনমিং। সেখানে চিকিৎসা খরচ ও যাতায়াতের খরচ তুলনামূলক কম। এ ক্ষেত্রে চীনকে ভিসা ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে। যেহেতু ভারত ভিসা বন্ধ রেখেছে, সে ক্ষেত্রে কুনমিং বিকল্প হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি বড় হাসপাতাল করে দিতে রাজি হয়েছে চীন। সেটির স্থান নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আমরা বলেছি, আমাদের হাতে পূর্বাচলে সুন্দর জায়গা রয়েছে। সেখানে আমরা জায়গা দেওয়ার কথা তাদের বলেছি।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনায় ঋণের সুদহার কমানো এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, বিষয়টি দেখবে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে।
তবে তিস্তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই ইস্যুতে আলোচনা হতে হলে আগে সমঝোতা হতে হবে। এজন্য একটু সময় লাগবে। সমঝোতা সই হওয়ার পর এ নিয়ে আলোচনা হবে।
ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এবারের সফরে আমরা খুব উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। সেই সঙ্গে বলেছি, তারা (চীন) এ নিয়ে যে স্টাডি করছে, সেগুলো যেন আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে। তারা নিশ্চিত করেছে, তাদের কারণে পানির প্রবাহ কমবে না।’
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে চীনের সঙ্গে সমঝোতা নবায়ন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নবায়ন করার বিষয়ে ঢাকা-বেইজিং উভয়েই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। নবায়নে আর কী কী সংশোধন করা যেতে পারে, তা দুই পক্ষই খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, ‘নবায়ন ইস্যুতে আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণ তাদের (বেইজিং) দিয়েছি। তারা তাদের পর্যবেক্ষণ আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। একটু সময় লাগবে (নবায়নের খসড়া চূড়ান্ত হতে), তবে হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিতে নবায়ন ইস্যুতে আরও কিছু নতুন বিষয় সংযোজন করা হবে, এজন্য সময় লাগছে। তবে ‘ইয়ালুজাংবু-যমুনা’ নদীর জলবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত তথ্যবিনিময়-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক এবার সই হয়েছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনায় ঋণের সুদহার কমানো এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, বিষয়টি দেখবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একেবারে সত্যি কথাটা আপনাদের বলি, এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি। কারণ, আমরা এটি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করছি না।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।’
মার্কিন তহবিল বন্ধ প্রত্যাশিতই ছিল : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফান্ড (তহবিল) বন্ধের নির্দেশনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়নি। তবে এটি প্রত্যাশিত ছিল।
বাংলাদেশেও সব মার্কিন সহায়তা বন্ধের প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি এটার উত্তর এখন দিতে পারব না। কারণ আমার কাছে এ রকম উত্তর আসেনি। তবে এটা ইতিমধ্যে পত্রিকায় চলে এসেছে। মোটামুটি এটা প্রত্যাশিত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ৯০ দিনের জন্য সব ধরনের তহবিল বন্ধ রাখছে। তিনি (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) কিন্তু নির্বাচনের আগে থেকে বলছিলেন, এগুলো বিবেচনা করে নতুন করে দেখবেন। তারা বিবেচনার জন্য সময়টা নিয়েছে, এভাবে তো বলেছে। ধরে নেওয়া যায়, এ ধরনের তহবিল কমবে, এটা তো সবাই আশঙ্কা করছিল।
মার্কিন সহায়তা বন্ধে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বার্ষিক অর্থায়নে প্রভাবের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটা নতুন বাস্তবতায় আসছি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত না। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট এসেছেন। তিনি তার যে নীতিমালা, সেগুলো যে আগে থেকে ভিন্ন, এটা সবাই জানতেন। আমাদের দেখতে হবে, আসলে শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় এবং যেকোনো পরিস্থিতি যখন সৃষ্টি হবে, তখন সেটা আমাদের ম্যাটারস বিহাইন্ড (নেপথ্যের কারণ) বের করতে হবে; কীভাবে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।’
