লিওনেল মেসি—ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম। বার্সেলোনা, পিএসজি এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার বিশ্বের প্রায় সব বড় স্টেডিয়ামে খেলেছেন। কিন্তু জীবনের সেরা ম্যাচডে পরিবেশের কথা বলতে গেলে এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করেননি মেসি।
মেসির মতে, ইউরোপের সেরা ম্যাচডে পরিবেশ তৈরি হয় স্কটিশ ক্লাব সেল্টিক পার্কে। এখানে পরিবেশ বলতে শুধুমাত্র স্টেডিয়ামের অবকাঠামো নয়, বরং ভক্ত-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, তাদের চিৎকার, গানের তালে পুরো স্টেডিয়ামের গর্জন, এবং ম্যাচ চলাকালীন তাদের অটুট উত্সাহকে বোঝানো হয়েছে।
২০১২-১৩ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে বার্সেলোনা যখন সেল্টিকের মুখোমুখি হয়, তখন এ কথা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই ম্যাচে বার্সেলোনা বল দখলের ক্ষেত্রে ৮৩ শতাংশ আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং মোট ৯৫৫টি পাস সম্পন্ন করেছিল। তবুও, ভিক্টর ওয়ানিয়ামা এবং টনি ওয়াটের গোলে সেল্টিক ২-১ ব্যবধানে চমকপ্রদ এক জয় তুলে নেয়। সেদিন সেল্টিকের গোলরক্ষক ফ্রেজার ফোরস্টারের অসাধারণ পারফরম্যান্সও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
২০২০ সালে সেল্টিকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মেসি বলেছিলেন, 'সেল্টিকের বিপক্ষে ম্যাচগুলো ছিল অসাধারণ। সেল্টিক পার্কে খেলা সবসময়ই কঠিন। স্টেডিয়ামে সমর্থকদের এমন উন্মাদনা এবং সমর্থন যেকোনো খেলোয়াড়কে অনুপ্রাণিত করে। ইউরোপের সেরা পরিবেশের কথা বললে, সেল্টিক পার্কই আমার পছন্দ।'
এই ম্যাচে বার্সেলোনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হারলেও, সেল্টিকের সমর্থকদের সমর্থন ও চিৎকার মেসিকে মুগ্ধ করে। উল্লেখ্য, সেল্টিকের বিপক্ষে বার্সেলোনার ১০ ম্যাচের মধ্যে এটি ছিল তাদের একমাত্র হার।
সেল্টিক পার্কের পরিবেশের প্রশংসা শুধু মেসির মুখেই থেমে থাকেনি। আরেক কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও একই কথা বলেছেন। ২০০৬ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে সেল্টিকের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। রোনালদো বলেছিলেন, 'সেল্টিকের ভক্তরা অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শুরুর আগে থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের চিৎকারে স্টেডিয়াম দুলে ওঠে। এমন সমর্থন অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।'
বিশ্ব ফুটবলের দুই সেরা খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সেল্টিক পার্কের এমন প্রশংসা নিঃসন্দেহে স্কটিশ ফুটবলের জন্য গর্বের।
সমর্থকদের হৃদয় নিংড়ানো সমর্থন আর তাদের তৈরি অসাধারণ আবহই সেল্টিক পার্ককে আলাদা করে তুলেছে ফুটবল বিশ্বে।
শ্রমিক অধিকার মনিটরিংয়ে ফিফার 'না', বিতর্কে সৌদি বিশ্বকাপ
চাপের মুখে আমোরিম: বয়স বেড়ে গেছে ১০ বছর!
টাকা থাকলে দল নেবেন, না থাকলে নেবেন না: ডাভিড মালান 