নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে দেশে কোনো সমস্যার সমাধানই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যতই সংস্কারের কথা বলি না কেন, জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহি আছে তাদের সহযোগিতা লাগবেই। বিএনপি সবসময় একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে। ৩১ দফা নিয়ে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা বিএনপির লক্ষ্য। কেউ যদি সেই লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এতে চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর জেলার বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জানতাম স্বৈরাচারের পতন হবে। কিন্তু কোন তারিখে হবে সেটা নিশ্চিত না। সেই বিশ্বাস থেকে দেশের মানুষের সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছে বিএনপি। স্বৈরাচার যেভাবে দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে সেই দেশকে মেরামত করতে হবে। দলের পক্ষ থেকে ৩১ দফায় আমরা যা যা বলেছি তাই তাই বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশন রিপোর্ট আকারে জমা দিয়েছে। কিন্তু সরকার হিসেবে একটু এদিকে-ওদিকে বলার চেষ্টা করবেই। তবে মূল বিষয় আমাদের বাইরে নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবসময় ভালো ভালো কথা বলবেন, সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করবেন, একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী নন, জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন, সংস্কার করবেন। কিন্তু দিন শেষে মানুষ প্রশ্ন তুলবে দ্রব্যমূল্য, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিয়ে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কী করতে পারবেন, তা মানুষ জানতে চায়।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের সমাজ ও নির্বাচনী ব্যবস্থা যদি গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কোনোভাবেই কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। সেটি জাতীয় কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন হোক না কেন, অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর যতই ঝড়-তুফান হোক না কেন; নির্বাচন হতেই হবে। নির্বাচনের বিকল্প নেই। এর সঙ্গে কম্প্রোমাইজ নেই।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘৩১ দফার মধ্য দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর যে শপথ বিএনপির রয়েছে, সে শপথকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার জন্য কেউ যদি এমন অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’
চুয়াডাঙ্গায় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নেওয়া হালিমা আরলী, স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাবেদ মাসুদ মিল্টন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ প্রমুখ।
প্রতিবেদনটি চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও কুষ্টিায়া প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে তৈরি
