তাবলিগ জামাতের সাথী ভাইদের সর্ববৃহৎ সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান আগমন করেন এখানে। এত বিশাল সংখ্যক মানুষের সমাবেশস্থল, চারদিকে শত-সহস্র মাইক, কিন্তু উচ্চমাত্রার শব্দ নেই। সর্বদা তাদের কার্যক্রমে দারুণ শৃঙ্খলা, কোমলতা ও নম্রতা প্রকাশ পায়। ইজতেমার বাহ্যিক সৌন্দর্য সেটার আয়োজনের বিশালত্ব, পরিবেশ এবং অংশগ্রহণকারীদের একত্র হওয়ার দৃশ্যের মধ্যে নানভাবে ফুটে ওঠে। কিছু বিশেষ দিক ইজতেমার বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়। তা তুলে ধরা হলো।
বিশাল সম্মিলনস্থল : টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান প্রায় কয়েক একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নানা ভাষা ও বর্ণের লাখ লাখ মুসলমান দ্বীনের দাওয়াতি কাফেলায় একত্র হন। ঘর ও প্রাসাদের শান্তি ত্যাগ করে পড়ে থাকেন ময়দানের সীমিত ব্যবস্থাপনায়। দ্বীনের ফিকির ও ইবাদত-বন্দেগিতে লীন হয়ে যান। এভাবে একসঙ্গে এত লোকের সমাবেশ একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। সাধারণের মধ্যেই অসাধারণ এক সৌন্দর্য ও মুগ্ধতা বিরাজ করে। সুরহীন নুরময় হেদায়েতি কথামালা অসাধারণ দাগ কাটে হৃদয়ে।
শুভ্রতা আর শুভ্রতা : ইজতেমা ময়দান এবং আশপাশের রাস্তা জুড়ে চোখ যত দূর যায় চারদিকে শুধু সাদা টুপি আর টুপি, পাঞ্জাবি আর পাঞ্জাবি। রাতের ইজতেমা ময়দান এক মোহনীয় আকর্ষণ সৃষ্টি করে হৃদয়ের গহিনে। এটা বিশ্ব মুসলিমের আবেগের এক জায়গা। বিচিত্র রঙের বিশাল শামিয়ানা, আলোকিত বাতি, ছন্দহীন আওয়াজ, ক্ষণে ক্ষণে (নিরাপত্তায় থাকা) বিমান-হেলিকপ্টারের উড়াল, থেমে থেমে বয়ান, সবর ও একরামের শান্তিময় মুহূর্ত, সব মিলিয়ে অসাধারণ এক ভালোবাসার জায়গা এটি।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ : ইজতেমার স্থান সাধারণত অত্যন্ত পরিষ্কার রাখা হয়, যেখানে সব অংশগ্রহণকারী অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকেন পরিবেশকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে। তবু অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ ময়লাযুক্ত ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়, সেখানেই মানুষ ত্যাগ স্বীকার করে পড়ে থাকেন ক্ষমার আশায়। স্বাভাবিক অবস্থায় যা কখনোই মেনে নিত না, তখন ধৈর্য ও একরামের এক সম্মিলন ঘটে যায় সেখানে।
প্রাকৃতিক দৃশ্য : ইজতেমার আয়োজনে বৃক্ষের সবুজ ছায়া, ঘাসের উজ্জ্বলতা, খোলা আকাশ এবং মাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও প্রশংসার যোগ্য। ইজতেমার মঞ্চ এবং আশপাশে ধর্মীয় প্রতীকসমূহ, বাঁশের তৈরি গম্বুজ ও আলোকসজ্জা, শহর জুড়ে নানা ব্যানার, ফেস্টুন, বিচিত্র শুভেচ্ছাবাণী ইত্যাদি এক ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য তৈরি করে।
আমলের বসন্ত : বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের একত্র হওয়া, তাদের পরিধানের মধ্যে বৈচিত্র্য এবং সবাই এক সুরে দোয়া করা, এগুলো এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে, যা একটি সুন্দর আধ্যাত্মিক ভ্রমণের অনুভূতি প্রদান করে। ওপর থেকে রাতের ইজতেমা ময়দান যেন নুরের এক বিশাল দ্বীপ। হজের পরে বিশ্ব মুসলিমের সর্ববৃহৎ গণজমায়েত এটিই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার সর্ববৃহৎ জামাত হয় বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে। দোয়া, তালিম, বয়ান, তাশকিল ও জিকির-আজকারের এক আমলি বসন্ত শুরু হয়ে যায় এখানে। আল্লাহতায়ালা বিশ্ব ইজতেমাকে বিশ্ব মুসলিমের হেদায়েতের মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমিন।
