যুবদল নেতার মৃত্যু দ্রুত তদন্তের নির্দেশ

সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার প্রত্যাহার

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৭ এএম

কুমিল্লায় যৌথ বাহিনীর হেফাজতে যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে এ ঘটনায় কুমিল্লার সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারকে প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও আইএসপিআরের পৃথক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. তৌহিদুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে আটক করে যৌথ বাহিনী। পরদিন দুপুরে আহত অবস্থায় গোমতি নদীর তীর থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। পরিবারের অভিযোগ, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অমানবিক নির্যাতনে তৌহিদুল মারা গেছেন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। গত ২৬ জানুয়ারি তার বাবা মোখলেছুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বাড়িতে আসেন। শুক্রবার তার বাবার কুলখানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও হত্যার কঠোর নিন্দা জানায়। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যেখানে দেশের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।

ক্যাম্প কমান্ডার প্রত্যাহার : আইএসপিআর

নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এতে বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি রাত ৩টায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা থেকে আটককৃত মো. তৌহিদুল ইসলাম শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এই অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক ঘটনাটি তদন্তে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত