চারবার সময় বাড়িয়ে ছয় বছরেও শেষ হয়নি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ। সময় ও প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও ছয় বছরে ১৩৬ কোটি টাকার সেতুর নির্মাণকাজ হয়েছে মাত্র ৫৬ শতাংশ। এতে সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং কচাকাটা থানাসহ ছয় ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে পুরাতন ও জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে।
জানা যায়, ১৮৭৯ সালে তৎকালীন নর্দার্ন বেঙ্গল ও আসামের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধার জন্য দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট রেলসেতু নামে নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনীর নদী পারাপার ঠেকাতে সেতুর দুটি সিøপার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর স্টিলের সিøপার দিয়ে মেরামত করে এটি বেইলি সেতু হিসেবে চালু করা হয়। সীমান্তবর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট, বলদিয়া, চর ভূরুঙ্গামারী, আন্ধারীঝাড় ও তিলাই এবং নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা, কেদার, বল্লভেরখাস ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগের জন্য বেইলি সেতুটিই একমাত্র পথ।
শতবর্ষ পুরনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এবং স্থলবন্দর ও দুধকুমার পূর্বপাড়ের মানুষের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য ২০১৯ সালে বেইলি সেতুর ভাটিতে ৬৪৫.০১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে সওজ। এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড যৌথভাবে নির্মাণকাজ শুরু করে। ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার চুক্তিতে শুরু হওয়া সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে ছয় বছরেও তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় পুরনো ও জরাজীর্ণ বেইলি সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঝুঁকি এড়াতে সেতুর ওপর একসঙ্গে উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। একমুখী ও ধীরগতির যাতায়াতের কারণে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়ছেন মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বলছে, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, নকশা পরিবর্তন ও করোনাকালে স্থবিরতাসহ ঠিকাদারের কাজে ধীরগতির কারণে নির্মাণ শেষ করতে চারবার সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৬ কোটি টাকার বেশি। গত ছয় বছরে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৫৬ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করে আগামী ২০২৬ সালের জুন মাস নাগাদ সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল বলেন, ‘ভূরুঙ্গামারী কিংবা জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সেতু। সেতুতে উঠলেই কাঁপতে থাকে। একমুখে গাড়ি দাঁড় করিয়ে আরেক দিকের গাড়ি পার হয়। জরুরি কাজ থাকলেও কিছু করার থাকে না। এই ভোগান্তির শেষ কবে হবে জানা নেই।’
সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ও সাইফুর রহমান জানান, নতুন সেতুর অভাবে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় সরকারের কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। পুরনো রেল সেতু দিয়ে পর্যাপ্ত মালামাল পরিবহন করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। জানমালের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।
সওজের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরাতন সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সেতুর কাজ প্রায় ৫৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। পাইলিং শেষ করে কিছু গার্ডার নির্মাণ শেষ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।’
