গ্যাস সংকট কাটাতে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৭ এএম

দেশে চলমান গ্যাস সংকট সামাল দিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য গেল বছরের তুলনায় এ বছর এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া খোলা বাজার (স্পট মার্কেট) থেকে এলএনজি কেনার পরিমাণ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পাশাপাশি দ্বীপ জেলা ভোলায় যে অব্যবহৃত গ্যাস রয়েছে, তা এলএনজিতে রূপান্তরিত করে নদীপথে দেশের মূল ভূখ-ে আনা হবে। এজন্য শিগগির দরপত্র ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টাসের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত এক সভায় জ্বালানি সচিব এসব কথা বলেন। এ সময় এফইআরবির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীর, নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জ্বালানি সচিব বলেন, ‘এখন দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। আমাদের নিজস্ব উৎপাদনও কমে এসেছে। এজন্য আশু সমাধান হিসেবে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘গেল বছর আমরা ৮৪ কার্গো এলএনজি এনেছি। আর চলতি বছর আমরা ১১৫ কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনা করেছি। চলতি বছরে আমাদের অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লাগবে।’

জ্বালানি কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১৮০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হওয়ার কথা জানিয়ে সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম সবসময় একই থাকে না। তাই আমরা চেষ্টা করছি স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি না কিনতে। এর বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি কেনার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি দেশ প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ব্রুনাইয়ের সঙ্গে শিগগির আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করব। এ ছাড়া আলজেরিয়া ও কাজাখস্তানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘ভোলা থেকে এখন সিএনজি আকারে যে গ্যাস আনা হচ্ছে, তা অনেক বিপজ্জনক। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ হতে পারে। এই গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখ-ে আনা হবে। তারপর তা রিগ্যাসিফিকেশন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এজন্য শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে।

ভোলার গ্যাস এলএনজি করে আনার পাশাপাশি পাইপলাইনের নির্মাণ হবে উল্লেখ করে জ্বালানি সচিব বলেন, ‘ভোলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত মোট ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাাণ করা হবে। এর মধ্যে ভোলা থেকে বরিশাল ৯৬ কিলোমিটার পাইপলাইন হবে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ। আমরা শিগগির এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠাব।’ দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত ৩১টি কূপ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য বাপেক্সের জন্য তিনটি রিগ কেনা হচ্ছে। কূপ সংস্কার করে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।’

জ্বালানি কেনার আর্থিক সংকটের বিষয়ে সরকারের এ সচিব বলেন, ‘আমরা ফান্ড সংকটে রয়েছি। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা চারটি বিষয়ে এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে গ্যাস, জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্য ও সার। আমাদের টাকা আছে, সংকট ডলারের। আশা করছি এ সংকটও কমে আসবে।’

অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে গণজোয়ার তৈরি করতে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলাকায় এলাকায় আমি যাব। আমাদের উপদেষ্টাও যাবেন। আমরা জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে একটা গণজোয়ার তৈরি করতে চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত