জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। দলের নাম ও প্রতীক নির্ধারণে সব স্তরের মানুষের অভিমত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠন দুটি। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দল গঠনের এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মুখে গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে পেরেছি। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতন ঘটলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী উপাদানের বিলোপ ঘটেনি। গণঅভ্যুত্থানের এক দফা তথা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রূপায়ণ, নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গঠন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ গড়ার কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই ভূখ-ের মানুষ ১৯৪৭-এর পাকিস্তান আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি জুলুম-শোষণহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছে। কিন্তু বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো ও রাজনৈতিক দলগুলো এ আকাক্সক্ষাকে ধারণ করতে ও এটির বাস্তব রূপ দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।’
ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করা দেশের সব স্তরের নাগরিকের বিশেষত, তরুণ জনগোষ্ঠীর নতুন আকাক্সক্ষা ও রাষ্ট্রকল্পকে ধারণ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। নতুন দলের কাছে কী আশা তা জানতে জনসাধারণের অভিমত সংগ্রহ ও সে সবের অগ্রাধিকার নির্ধারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি সারা দেশে কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ সেøাগানের আওতায় পরামর্শমূলক উদ্যোগের লক্ষ্য সারা দেশে সব কমিটি ও কমিটির কর্মীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে যুক্ত করা। রিকশাচালক, দোকানদার, দিনমজুর, গৃহকর্মী, শিক্ষক, ঝাড়ুদার প্রভৃতি শ্রেণি বা গোষ্ঠীর এক লাখের বেশি মানুষের নতুন রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনার বিষয়ে অভিমত চাওয়াই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।
নতুন রাজনৈতিক দল সম্পর্কে অভিমত সংগ্রহের জন্য প্রায় এক লাখ মানুষের কাছে পৌঁছার লক্ষ্য ঠিক করেছে দুই সংগঠন। নতুন দলের নাম ও প্রতীক প্রস্তাব করার জন্যও জনগণকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
হাসনাত বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি অনন্য উদ্যোগ, যেখানে ব্যাপক আকারে জনমত সংগ্রহ করা হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা’ রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এমন একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার কাজ করবে।’
জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এই ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে আমরা অফলাইনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার এক লাখ মানুষের কাছে যাব। অনলাইনে ও টেকনোলজির মধ্য দিয়েও সমসংখ্যক মানুষের কাছে যাব। তাদের অভিমতের ভিত্তিতেই ছাত্রদের নতুন দলের নাম নির্ধারিত হবে। দলের মার্কাটাও তাদের মত অনুযায়ীই হবে।’
