বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার করবে। সংস্কার ঘোষণা দিয়ে হয় না। ২০২২ সালে আমাদের নেতা তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে যারা দেশকে বিভাজনের মাধ্যমে সংস্কার করতে চান, তাদেরকে বলতে চাই; আমাদের ছোট্ট একটা দেশকে ভাগ করে সংস্কার এ দেশের মানুষ কখনোই কামনা না। দ্রুত নির্বাচন দিন। নির্বাচনের পর যে দল ক্ষমতায় আসুক আমরা একসঙ্গে কাজ করবো।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিল থানার আয়োজনে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘’২৪-এর গণহত্যার বিচার হতেই হবে। যারা গণহত্যা করেছে, যারা লুট করেছে, যারা ছিনতাই করেছে, এ দেশে মানুষের অধিকার, কথা বলার অধিকার, এই দেশের মানুষের সম্পদ লুট করেছে, যারা এই দেশের শিশু বাচ্চাদের গুলি করে হত্যা করেছে, গুলির নির্দেশ দিয়েছে, তারা কেউ যেন বিচারের হাত থেকে রেহাই না পায় সেই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাকশাল উঠিয়ে দিয়ে সর্বদলীয় রাজনীতি চালু করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার করেছিলেন। বাকশালের কারণে হাসিনার রাজনীতির কোনো সুযোগ ছিল না। জিয়াউর রহমান হাসিনাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে ছিলেন। সব পত্র-পত্রিকা চালু করেছেন, জনগণকে কথা বলার অধিকার এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে ছিলেন মেজর জিয়া। পরে খালেদা জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করে ছিলেন।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তানভীর হাসান রবিন এর সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরুজা আব্বাস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা ডা. মাহাদী আমিন সহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং মতিঝিল থানা বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোমেনবাগে ডেমোক্রেসি অডিটোরিয়ামে দি মিলিনিয়াম ইউনিভার্সিটি আয়োজিত জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস, ছাত্র-জনতা এখন কোথায়? শীর্ষক গোলটেবিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘এই সরকার তাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত করলে এটা যৌক্তিক হবে না। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে বিএনপির পক্ষ থেকে শুরুতেই বলা হয়েছিল। গণতন্ত্রের জন্য দেশের লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন। সর্বশেষ ২৪-এর আন্দোলনে যে নতুন সূর্যোদয় হয়েছে, তা কোনোদিন আমরা অস্তমিত হতে দিতে পারি না। ৫ আগস্ট আমরা যে মুক্তির আনন্দ উপভোগ করেছি এখন ছয় মাস পরে এসে সে আনন্দ উপভোগ করতে পারছি না।’
