বিজিএমইএর প্রশাসকের মেয়াদ বাড়ল

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৩৮ এএম

তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর ফলে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত প্রশাসকের দায়িত্বে থাকছেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগ গত সপ্তাহে বিজিএমইএর প্রশাসকের মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত অফিস আদেশ দিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ২০ অক্টোবর চার মাসের জন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনকে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রশাসকের মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হলেও অনাকাক্সিক্ষত বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু ও সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না এমনটা জানিয়ে প্রশাসক মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই শর্তে প্রশাসকের মেয়াদ চার মাস বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়।

শর্ত দুটি হচ্ছে সংগঠনের সংঘ স্মারক ও সংঘবিধি অনুসরণ করে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

বিজিএমইএর নির্বাচনকেন্দ্রিক দুই জোট সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংগঠনটির সভাপতিসহ পর্ষদের অন্য সদস্যদের ফোরাম নেতারা পদত্যাগের দাবি তোলেন। ৭ আগস্ট পর্ষদের ওপর অনাস্থা জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে স্মারকলিপি দেন তারা। ওইদিন সম্মিলিত পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হট্টগোল হয়। গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংগঠনটির পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার দাবিতে ১৯ আগস্ট বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে চিঠি দেন ফোরাম নেতারা। এভাবে আড়াই মাসের টানাপড়েন শেষে পর্ষদ ভেঙে ২০ অক্টোবর প্রশাসক বসায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বিজিএমইএর পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ২৪ আগস্ট এসএম মান্নান সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও সেটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে পর্ষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। মূলত এসব অভিযোগে পর্ষদ ভেঙে ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে প্রশাসক নিয়োগ করে মন্ত্রণালয়।

১৫ বছরে একবার ছাড়া সব মেয়াদেই সম্মিলিত পরিষদ সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়েছে। সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত