এসির তাপমাত্রা ২৫ না রাখলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১১ এএম

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আসন্ন পবিত্র রমজান ও গরম মৌসুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, 
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দিষ্ট টিম কাজ করবে। কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে সেখানে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিংবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিদ্যুৎ ও 
জ্বালানি উপদেষ্টা বলছেন, ‘যেসব লাইনে বিদ্যুতের ব্যবহার অতিরিক্ত বেড়ে যাবে সেখানে লোডশেডিং করব। বাধ্য হয়ে যদি লোডশেডিং করতে হয়, তাহলে আগেই জানিয়ে দেব। শহর ও গ্রামের মধ্যে পার্থক্য থাকবে না। কেপিআই বাদ দিয়ে সমানভাবে লোডশেডিং করব। লোডশেডিং শুরু হলে আমার বাসা থেকে শুরু হবে।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নিজ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

ফাওজুল কবীর খান বলেন, ‘শীতকালে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। গ্রীষ্মে সেই চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭-১৮ হাজার মেগাওয়াট। এই যে চাহিদাটা বেড়ে যাওয়া, তার অন্যতম দুটো কারণ হচ্ছে সেচ ও এসির ব্যবহার বা কুলিং লোড। সেচে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। যেহেতু বাইরে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র চালানোয়। এসি এখন শুধু শহরে নয়, গ্রাম পর্যন্ত ব্যবহার হয়। অনেকে সোয়েটার, কোট পরে ১৯,২০,২১,২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও এসি চালায়। আমাদের দেশে এত কম তাপমাত্রার দরকার নেই। এসি যদি পরিমিত আকারে ব্যবহার করা যায়, তাহলে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।’

কুলিং লোড কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ধর্ম উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি, তিনি যেন প্রত্যেকটা মসজিদে তারাবির সময় এসি ২৫ ডিগ্রিতে ব্যবহারের নির্দেশনা দেন। সচিবালয়সহ সরকারি-বেসরকারি অফিসেও এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপদেষ্টা পরিষদের সবার কাছে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টাকে চিঠি দেওয়া হবে, যাতে বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এ সিদ্ধান্ত জানায়।’

গ্যাস সংকটের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে কূপ খনন করা হচ্ছে। যেখান থেকে অল্প অল্প করে উৎপাদন বাড়ছে। এ ছাড়া গ্যাসের অবৈধ যেসব সংযোগ রয়েছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এতেও কিন্তু দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে। তা ছাড়া এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার সহায়তা যেন পাই, সে বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিন্তু সক্ষমতার অভাব নেই, অভাব হলো 
জ্বালানির।’


জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বর্তমানে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হয়। সে ক্ষেত্রে কয়লা, গ্যাস ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে কী পরিমাণে, কত দামে বিদ্যুৎ কেনা হবে, সে বিষয়ে একটি মানদ- ঠিক করা হবে। সব মিলিয়ে আমরা বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতকে একটি সাসটেইনেবল পর্যায়ে নিয়ে আসতে চাই।’

সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফাওজুল কবির খান, যিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির পাশাপাশি সড়ক ও যোগাযোগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘ডিসিদের সঙ্গে সড়ক মেরামত, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও রেলের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হয়েছে। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেছি আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা। আমরা একটা খাদের মধ্যে অর্থনীতিকে পেয়েছি। ২০২১ সালে রিজার্ভ ছিল ৪২ বিলিয়ন ডলার। এসে পেয়েছি ২০ বিলিয়ন, বাকি সব অর্থ পাচার হয়ে গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত