রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানিতে প্রথমবার আদালতে ইউন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩০ এএম

প্রথমবারের মতো নিজের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলার শুনানিতে হাজির হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। গতকাল বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রসিকিউটররা মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তবে ইউনের আইনজীবীরা মামলার নথি পর্যালোচনার জন্য বাড়তি সময় আবেদন করেন। একই সঙ্গে শুনানির সময় অবিলম্বে ইউনের কারামুক্তির আবেদন জানিয়েছেন তার পক্ষের আইনজীবীরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, সিউল ডিটেনশন সেন্টারে অবরুদ্ধ ইউনকে আদালতে নিয়ে আসতে বিচার মন্ত্রণালয়ের গাড়ি অবস্থান করছে। আদালতের বাইরে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকজন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গত মাসে প্রসিকিউটররা ইউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারি করে একধরনের বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। দেশটির ইতিহাসে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এই প্রথম গঠিত হলো। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কয়েক বছরের কারাদণ্ডও হতে পারে।

ইউনকে আটক রাখার অযৌক্তিকতা নিয়ে তার আইনজীবীরা বলেছেন, অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তদন্ত পরিচালিত হয়েছে এবং ইউনের তরফ থেকে কোনো আলামত ধ্বংসের সম্ভাবনা বা প্রয়াসও নেই। ইউনের একজন আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, দেশ অচল করে দেওয়ার উদ্দেশ্য তার ছিল না। পার্লামেন্টে বিরোধী দলের একপক্ষীয় আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

ইউনের এই সামরিক আইন জারির মাধ্যমে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পার্লামেন্টে অভিশংসিত হন ইউন এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ইউনকে গ্রেপ্তার করতেও বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত