ঋতু পরিবর্তনের সময় বাবা-মা আতঙ্কে থাকেন শিশুকে নিয়ে। সর্দি-জ¦রে আক্রান্ত হয় কি না। এ সমস্যা কাটাতে সহসাই শিশুর ইমিউনিটি বাড়াতে পারেন। আর ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো থাকলে সহসাই শিশু যেকোনো রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকবে। শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী করবেন জানালেন পুষ্টিবিদ আসফি মোহাম্মদ
প্রসেসড ফুড খাওয়া কমাতে হবে। প্রসেসড ফুড রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। এ ধরনের খাবার হজম হয় না ঠিকভাবে। ফলে শরীরে টক্সিন জমা হতে থাকে। শিশুদের এ ধরনের খাবার থেকে দূরে রাখুন। হোল গ্রেইন আর দুগ্ধজাত খাবার দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাজা ফল ও সবজি শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তেল মসলা কম দিয়ে বাসার রান্না করা খাবার শিশুকে খেতে দিন। সহজে হজম হবে। অতিরিক্ত ভাজা পোড়া খাবার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। অ্যন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
খাবারের বদলে শিশুকে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো বন্ধ করুন। সাপ্লিমেন্টে দেহের ভারসাম্য নষ্ট হয় অনেকাংশেই। সাধারণত রঙিন সবজি ও ফলে ভিটামিন সি থাকে। সেগুলো খেলে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার রাখুন। শিশুর ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালরি ঠিক করে তাকে খাবার দিতে হবে। খাবারে অবশ্যই শর্করা (ভাত, রুটি, ব্রেড, নুডলস, আলু ইত্যাদি), আমিষ (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদি), ফ্যাট (যেকোনো তেল, দুধ, মাংস ইত্যাদি), সবজি (সবুজ, হলুদ শাকসবজি) ও ফল রাখতে হবে। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যেন থাকে। ভিটামিন সি ক্ষতিকর জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে এপিথিলিয়াল প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দৃঢ় করে। এমনকি অণুজীবের ধ্বংসের হারও বাড়িয়ে দেয়। পেয়ারা, আমলকী, কমলা, জাম্বুরা, শজনে পাতা, শাক, লেবু, কাঁচামরিচ ইত্যাদিতে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যাবে। প্রতিদিন রোদে (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা) ১৫ থেকে ৩০ মিনিট থাকলে ভালো। এতে শরীর সূর্যের আলো নিয়ে কার্যকরী ভিটামিন ডি তৈরি করবে, যা শিশুর শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। অনেক সময় অনেকের শরীরে এই কার্যকরী ভিটামিন ডি খুব কম থাকে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্টারি খেতে পারেন। মনে রাখবেন, সূর্যের আলো ছাড়া ভিটামিন ডি শরীরে কার্যকর হবে না। মাছের তেল, ডিম ইত্যাদিতে ভিটামিন ডি থাকে। শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাবেন। খাবারের মধ্যে পানি না খেয়ে খাওয়ার আগে এবং পরে খাওয়াবেন। সকালে খালি পেটে পানি খেতে দিন। প্রোবায়োটিক খেতে হবে প্রতিদিন। প্রোবায়োটিক একটি ভালো ব্যাকটেরিয়া, যা শরীরে খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করে। দইয়ে প্রোবায়োটিক পাওয়া যায়। এ ছাড়াও সাপ্লিমেন্টারি হিসেবেও খেতে পারেন। ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার বা ভালো ফ্যাট, যা কডলিভার তেল, অলিভ তেল, সামুদ্রিক মাছ বা মাছের তেল, বাদাম ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়, সেগুলো প্রতিদিন খেতে হবে। এতে ভিটামিন এ, ডি পাওয়া যাবে। জিংক-সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খাওয়া ভালো। প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকে আমরা জিংক বেশি পেয়ে থাকি। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডাল, দুধ, ডিম, মিষ্টি কুমড়ার বিচি ইত্যাদি) রাখার চেষ্টা করুন।
প্রতিদিন শিশুকে ১ ঘণ্টা খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রম করতে দিন। ব্যায়াম বা বাসার কাজও হতে পারে। রাতে শিশুকে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে দিন। এ ছাড়া মসলা জাতীয় খাবার যেমন- আদা, রসুন, লবঙ্গ, সিড (সরিষা, গোল মরিচের গুঁড়া, চিয়া সিডস, ইত্যাদি) কালোজিরা ইত্যাদি প্রতিদিন একটু একটু করে খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি দিন। শিশুর খাদ্যাভ্যাসগুলোও নিয়ম করে প্রতিদিন মেনে চলতে হবে।
