পরিবর্তনের জন্য নিজের প্রতি পাঁচ চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:২৫ এএম

নিজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নিতে হয় পদক্ষেপ, বের হতে হয় দীর্ঘদিনের স্বস্তিকর অভ্যাস থেকে। নিজেকে জানাতে হয় চ্যালেঞ্জ। নিজের পরিবর্তনের জন্য উপকারী এমন পাঁচটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে লিখেছেন লিজা চৌধুরী

অভিযোগবিহীন একুশ দিন

অভিযোগপ্রবণ মানুষ নিজের সব ব্যর্থতার জন্য অন্যের দোষ খুঁজে পায়। অথচ একটু ইতিবাচক হলে সে দেখতে পেত সমস্যা সমাধানের জন্য নিজের চারপাশেই ছিল নানা উপায়। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অঙ্কুরোদগমের জন্য তাই চাই অভিযোগ করার অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসা। গবেষকরা বলেন, কোনো অভ্যাস অবচেতনে প্রোথিত হতে সেই কাজটি সচেতনভাবে একুশ দিন চর্চা করতে হয়। তাই অভিযোগ না করার অভ্যাস করতে টানা একুশ দিন কারও প্রতি কোনো অভিযোগ, অনুযোগ না করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।

এক মাসের বাহুল্যবর্জিত জীবন

মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইলকে আমরা বলতে পারি বাহুল্যবর্জিত জীবন। যে জিনিসটি না হলেই নয়, শুধু সেটি ক্রয় ও ব্যবহারের জীবনকে বলা যায় এই বাহুল্যবর্জিত জীবন। আমাদের জীবনের অধিকাংশ দুশ্চিন্তা ও হতাশার কারণ হলো পণ্য দাসত্ব। পর্যাপ্ত পোশাক থাকার পরও পোশাকের নেশা, বাসস্থান থাকার পরও আরেকটি বাসস্থান লাভের আকাক্সক্ষা

প্রভৃতি আমাদের জীবনকে একটি প্রতিযোগিতায় ফেলে দেয়। এই প্রতিযোগিতা আমাদের মনকে বিপর্যস্ত করে, শরীরে বাঁধে অসুখ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাহুল্যবর্জিত জীবনযাপনের বিকল্প নেই। প্রাথমিকভাবে এক মাসের বাহুল্যবর্জিত জীবনযাপনের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। এই এক মাস সেই জিনিসটি কিনবেন, যা ছাড়া আপনার জীবন অচল হয়ে পড়বে।

আড়াই মাসের কঠোর নিয়মানুবর্তী জীবন

নিয়মকে অনেকে বন্দিত্ব মনে করলেও নিয়মানুবর্তিতা আমাদের দেয় স্বাধীনতা। কেউ যদি নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করেন তাহলে তিনি উপভোগ করতে পারবেন সুস্বাস্থ্যের স্বাধীনতা। কিন্তু তিনি যদি উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করেন তাহলে বন্দি হয়ে পড়বেন অসুস্থতার পরাধীনতা। নিয়মানুবর্তী জীবনের সুফল পরখ করে দেখতে চাইলে নিতে পারেন আড়াই মাসের কঠোর নিয়মানুবর্তিতার চ্যালেঞ্জ। এই আড়াই মাস আপনাকে প্রতিদিন চার লিটার পানি পান করতে হবে, দিনে দুবার পৌনে এক ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করতে হবে, সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, প্রতিদিন অন্তত পড়তে হবে দশ পাতা, ঘুমের আগে লিখতে হবে জার্নাল। আড়াই মাস এই রুটিন মেনে চললে নিজের পরিবর্তন অনুভব করতে পারবেন আপনি নিজেই।

সাপ্তাহিক টেক ফাস্ট

সপ্তাহের এক দিন প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে দূরে থাকার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। একে বলতে পারেন সাপ্তাহিক টেক ফাস্ট। এই দিনটি প্রযুক্তি থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে পারেন। এর ফলে অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ার ফলে যে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক শূন্যতা তৈরি হয় তা কিছু পরিমাণে হলেও হ্রাস পায়। দেহ ও মন সুযোগ পায় এই শূন্যতা পূরণে।

বায়ান্ন সপ্তাহের সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ

আমরা অনেকেই সঞ্চয়ের প্রতি মনোযোগী হই না। ফলে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে থাকে না প্রয়োজনীয় অর্থ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিতে পারেন বায়ান্ন সপ্তাহের সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ অনুসারে নিজের সামর্থ্য অনুসারে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ সঞ্চয় করতে হবে। যদি আপনি প্রতি সপ্তাহে পাঁচশ টাকা সঞ্চয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তাহলে বছর শেষে সঞ্চয় হবে ২৬ হাজার টাকা, আর যদি প্রতি সপ্তাহে এক হাজার টাকা সঞ্চয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তাহলে বছর শেষে সঞ্চয় হবে বায়ান্ন হাজার। এর বেশিও সঞ্চয় করতে পারেন নিজের সামর্থ্য অনুসারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত