বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, সমাজের বৈষম্য দূর করার জন্য জুলাই অভ্যুত্থানে অনেক তাজা প্রাণ দিতে হয়েছে। অথচ বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। এর মূলোৎপাটন করতে হলে আমাদের সম্পদের সুষম বণ্টন অবশ্যই প্রয়োজন। এর নিয়ামক হিসেবে আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ‘রোল অব ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স ইন ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, সম্পদ বণ্টনের যে প্রক্রিয়াগুলো সবচেয়ে বেশি অনুসরণীয় জাকাত তার মধ্যে অন্যতম সঠিক পদ্ধতি। জাকাত দেওয়ায় মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে এবং সমাজে জাকাতের প্রভাব দৃশ্যমান করতে হবে।
জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনের একটি হস্তান্তর প্রক্রিয়া উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, নৈতিকতাবিহীন নেতৃত্ব তৈরি হলে সম্পদের সুষম বণ্টন হবে না। আমরা সুষম সমাজ চাই, নৈতিক নেতৃত্ব চাই। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ট্যাক্সেশন সিস্টেম যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে না। এখন মানুষের সাফল্যকে বিচার করা হয় তার ভোগ সক্ষমতা দিয়ে। তার আত্মসম্মান, শ্রদ্ধা ও সামাজিক দায়কে বিচার করা হয় না।
সেমিনারে কী নোট উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোইকোনমিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম এমরানুল হক। অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড জাকাত অ্যান্ড ওয়াকফের মহাসচিব দাতুক ড. মোহাম্মদ গাজালি নূর।
সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইকোনমিকস ডিপার্টমেন্টের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, তারবিয়াহ এডুকেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান মোখতার হোসেন, সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিষদের কনভেনার এবং রহিম-আফরোজ গ্রুপের পরিচালক মুনওয়ার মিসবাহ মঈন।
