শৈলকূপা ট্রিপল মার্ডার

এবার বাঁওড়ে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর ত্রিবেণী শ্মশান ঘাটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে শনিবার গভীর রাতে বাঁওড় পাড়ের ধারে হরিণাকু-ু উপজেলার নারায়ণকান্দি গ্রামের মাঠে ৩টি বোমার বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে স্থানীয়রা। এতে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেছে। তবে কে বা কারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছে না কেউ।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কায়েতপাড়া বাঁওড়ের দখলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

হরিণাকু-ু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আলফাজ হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আদেশ হয়েছিল নিহত চরমপন্থি নেতা হানেফ ম-লের বিরুদ্ধে। উচ্চ আদালতেও ফাঁসির রায় বহাল থাকলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বিশেষ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে হানেফ এলাকায় ফিরে আসেন এবং মৎস্যজীবী লীগের হরিণাকু-ু উপজেলা কমিটির সহসভাপতি নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করতে শুরু করেন। হাসিনা সরকারের পতন হলে দুর্ধর্ষ হানেফ অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আবারও ফিরে আসার চেষ্টা করেন।

সূত্রটি জানায়, শুক্রবার রাতের ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে রয়েছে আলমডাঙ্গার কায়েতপাড়া বাঁওড়। ওই বাঁওড়ে বছরে কোটি টাকার ওপরে মাছ চাষ হয়। মৎস্যজীবী লীগ নেতা ও পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি জনযুদ্ধ এমএলের আঞ্চলিক প্রধান হানেফ ম-ল বাঁওড়ে মাছ ধরা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে এলাকায় বিবদমান একাধিক আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্রুপের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ওই সূত্র ধরেই হানেফসহ তার দুই সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই কায়েতপাড়া বাঁওড় নিয়ে গত ৩০ বছরে প্রায় অর্ধশত মানুষ খুনের শিকার হয়েছে।

হরিণাকু-ুর সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, সন্ত্রাসী হানেফের বিরুদ্ধে হরিণাকু-ুর কুলবাড়িয়া গ্রামের আলফাজ, তিওরবিলা গ্রামের লুৎফর রহমান, তাহেরহুদার আব্দুল কাদের ও পোলতাডাঙ্গার ইজাল মাস্টারসহ শতাধিক মানুষকে গুলি ও গলাকেটে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

অপর দিকে ট্রিপল মার্ডারের পরে শনিবার গভীর রাতে হরিণাকুন্ডুর তাহেরহুদা ইউনিয়নের নারায়ণকান্দি গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য নতুন করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার নারায়ণকান্দি, পোলতাডাঙ্গা, কায়েতপাড়া এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ফতেপুর, শ্রীনগর ও রামদিয়া এই ৬ গ্রামের ওপর দিয়ে কায়েতপাড়া বাঁওড়টি অবস্থিত। বাঁওড়ে তালিকাভুক্ত মৎস্যজীবীরা মাছ চাষ করে থাকেন। স্বাধীনতার পর থেকে বাঁওড়টি চরমপন্থিরা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এক সময় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির হক গ্রুপের আঞ্চলিক নেতা ক্রসফায়ারে নিহত বাহিনী প্রধান মফিজের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি জনযুদ্ধের নিহত হানেফের হাতে।

শৈলকূপার সহকারী পুলিশ সুপার অমিত কুমার বর্মন জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। সেই সঙ্গে হত্যা মামলাও হয়নি। তবে প্রকৃত হত্যাকারীদের আটক করতে ঝিনাইদহের শৈলকূপা, হরিণাকু-ু, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ইবি থানা এলাকায় জোরালোভাবে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধ লাল পতাকার আঞ্চলিক প্রধান ও মৎস্যজীবী লীগ নেতা হানিফ উদ্দিন ওরফে হানেফ ম-ল, তার শ্যালক লিটন মিয়া ও হানেফের দেহরক্ষী রাইসুল ইসলামকে শুক্রবার রাতে শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ত্রিবেণী শ্মশান খাল এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন জাসদ গণবাহিনীর কালু গ্রুপের প্রধান কমরেড কালু হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

গতকাল শনিবার সদর হাসপাতালে পোস্টমর্টেমের পর নিহতদের স্বজনরা তাদের মরদেহ বুঝে নেয়। পরে নিহতদের প্রত্যেকের গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের  দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত