বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আহতদের চিকিৎসা না দিতে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গতকাল রবিবার দুপুরে প্রসিকিউশন কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘পঙ্গু হাসপাতাল অর্থাৎ নিটোর, সেই জায়গায় আমরা যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে আহত রোগীরা যারা ছিল, তারা আমাদের বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগে প্রথম যখন হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে বলেছেন, “নো ট্রিটমেন্ট”, “নো রিলিজ”, অর্থাৎ কোনো চিকিৎসা দেবেন না এবং কাউকে এখান থেকে রিলিজ দেবেন না, যাতে বাইরে যেতে না পারে।’
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই নির্দেশাবলির (শেখ হাসিনার) কথা সেখানে রোগীরাও জানিয়েছে, ডাক্তাররাও জানিয়েছেন। এই তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।’
এক প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি, জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সময় আমাদের যে সন্তানরা শহীদ হয়েছে, তাদের মৃতদেহ সুরতহাল করা হয়নি প্রশাসনের চাপে, কোনো পোস্টমর্টেম করতে দেওয়া হয়নি। পোস্টমর্টেম রিপোর্টও নেই। শুধু তা-ই নয়, যাদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, এর মধ্যেই তারা শাহাদৎবরণ করেছে, তারা যে গুলিতে মারা গেছে, ডেথ সার্টিফিকেটে এ কথাটাও লিখতে দেওয়া হয়নি। তারা বাধ্য করেছেন মৃত্যুর অন্য কারণ যেন লেখা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেছি। আদালত জানতে চেয়েছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। আমরা বলেছি, ঘটনার যে পরিস্থিতি মানবতাবিরোধী অপরাধ এই পর্যায়ে হয়েছে, দ্রুত লাশ দাফন করতে বাধ্য করা হয়। চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া হয়। সেই জায়গায় পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক বিষয় নয় এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যে নেই, এটাও মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি জাজ্বল্যতম প্রমাণ।’
তিন পুলিশকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজধানীর শাহবাগ থানার সাবেক ওসি আরশাদ হোসেন, রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক কিশোরকে গুলির ঘটনায় বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) চঞ্চল কুমার সরকার ও আরেকটি মামলায় বরখাস্ত কনস্টেবল ইমাজ হোসেন প্রামাণিককে রিমান্ডে নিয়ে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। চঞ্চল সরকারকে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি, আরশাদ হোসেনকে ২ মার্চ এবং ইমাজকে ৩ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত সংস্থা। এ ছাড়া এই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ এপ্রিল ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের কনস্টেবল সুজন হোসেনকে গতকাল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আদালত তার বিষয়েও ২২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম সরদার ও গাজী এম এইচ তামিম।
