দুই ম্যাচেই আসর শেষ বাংলাদেশের

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৪৪ এএম

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুবাইয়ের সেøা উইকেটে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ করেছিল ২২৮ রান। রাওয়ালপিন্ডির উইকেট তেমনটি নয়, বরং অনেকখানি রানপ্রসবা। কিন্তু উইকেটের ধরন বদলানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে রানের ঘরে বাংলাদেশের উন্নতি হলো মোটে ৮ রানের। আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৩৬ রান। এ পুঁজিতে পাকিস্তানের মাটিতে ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখা দুঃস্বপ্নের মতো। তাই হলো, রাচিন রবীন্দ্রর দারুণ সেঞ্চুরিতে কিউইদের জয় এলো ৫ উইকেটের। আর পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে দুই ম্যাচেই থেমে গেল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পথচলা।

এ ম্যাচের আগে শান্তদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছিলেন, ‘এটা বড় স্কোর গড়ার মাঠ। গতকাল (পরশু) দেখেছি লাহোরে কী রানটা হয়েছে। এখানে বড় স্কোরই দেখছি। ৩০০ পেরোনো স্কোর গড়তে হবে। আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। আমাদের খেলা গত পাঁচ ওয়ানডে দেখুন, দুটিতেই ৩০০ পেরোনো স্কোর গড়েছি। আমাদের সামর্থ্য আছে।’ কোচের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও জাকের আলী অনিক কার্যকর দুটি ইনিংস খেললেও মাঝের ওভারগুলো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আশা-যাওয়ার মিছিলে। রাওয়ালপিন্ডির ফ্ল্যাট উইকেটে সুযোগ হিসেবে পাওয়া বলগুলোর সদ্ব্যবহার করা তো দূরের কথা, উল্টো উত্তেজনার আতিশয্যে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসেন তারা। অধিনায়ক শান্তর ৭৭ জাকেরের ৪৫ ও রিশাদের ২৬ রানের ইনিংস ছাড়া এতে অবদানকারীর নাম খুঁজে পাওয়া দায়। এমনকি কোনো জুটি ছুঁতে পারেনি ৫০ রানের গণ্ডিও।

অথচ আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দুই ওপেনার। শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে গড়েন ৪৫ রানের জুটি। অমন শুরুর পরই হঠাৎ খেই হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ২৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৪ রানে ফেরেন তানজিদ। তিনে নেমে ১৩ রান করে একই পথে হাঁটেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তৃতীয় উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে ৫১ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়েন শান্ত। যাতে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান হৃদয়ের অবদান ২৪ বল খেলে ৭। তারপর দৃষ্টিকটু শটে সাজঘরের পথ ধরেন দুই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (২) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪)। ১১০ বলে শান্ত ফেরেন ৭৭ রানে। পরে জাকেরের ৪৫ ও রিশাদের ২৬ রানের সৌজন্যে দুইশ পেরোয় বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার একাই ধসিয়ে দেন স্পিনার মাইকেল ব্রেসওয়েল। এ ছাড়া উইলিয়াম ও’রুর্কে নেন ২ উইকেট।

জবাবে উইকেট-মেডেন ওভারে উইল ইয়ংকে ফিরিয়ে আশার সঞ্চার করেন তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ ওভারে ঘণ্টায় ১৪৮.৯ কিলোমিটার গতির বলে কেন উইলিয়ামসনকে নিজের শিকার বানান নাহিদ রানা। বড় মঞ্চে তার প্রথম উইকেট আশার পালে হাওয়া জোগায়। কিন্তু ইনজুরি থেকে ফিরে আসরে নিজের প্রথম ম্যাচেই দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকান রাচিন রবীন্দ্র। ডেভন কনওয়ের সঙ্গে ৫৭ ও টম ল্যাথামের সঙ্গে ১২৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন বাংলাদেশকে। ১০৫ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় রাচিনের ১১২ রানের ইনিংসটি যেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের কাছে শিক্ষামূলক। রিশাদের বলে তিনি যখন আউট হলেন, ৭০ বলে কিউইদের প্রয়োজন তখন ৩৬ রান। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর এ ম্যাচে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে ল্যাথামের রানআউট শুধুই কালক্ষেপণ। হেসেখেলে ২৩ বল হাতে রেখে লক্ষ্যের সঙ্গে সেমিফাইনাল নামক গন্তব্যেও পৌঁছে যায় কিউইরা। তাসকিন, নাহিদ, মোস্তাফিজ ও রিশাদের একটি করে উইকেট প্রাপ্তি সান্ত্বনা পুরস্কার। ব্যাটিং ব্যর্থতার গল্প থেকে বের হতে না পারাটাই আসর শেষ করে দিল বাংলাদেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত