বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করে সঠিক ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠন করার দায়িত্ব পাবে। কিন্তু এই আশা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, সেই জন্য আমাদের নিজেদের তৈরি করতে হবে। প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকে তৈরি হতে হবে। আমাদের কথাবার্তা, কাজকর্মে সেই প্রতিফলন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আমাদের কাছে সেই প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। দেশের মানুষ দায়িত্ব দিলে সেই দায়িত্ব পালনে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে ও শপথ নিতে হবে।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউজ ময়দানে খুলনা মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গোটা নগরীতে ছিল উৎসবের আমেজ। সকাল ১০টায় সম্মেলন শুরুর আগেই নেতাকর্মীরা রং-বেরঙের গেঞ্জি, টি-শাট, ক্যাপ পরে সম্মেলন স্থলে জড়ো হয়। ২০১২ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে এই সার্কিট হাউজ ময়দানে শেষ সমাবেশ করেছিল বিএনপি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক আগেই বলেছিলেন, স্বৈরাচার দেশকে ধ্বংস করে পালিয়ে যাবে। দেরিতে হলেও তা সত্য হয়েছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সম্পদ লুট করে, দেশকে ধ্বংস করে তারপর পালিয়েছে। ধ্বংস করেছে গণতন্ত্র আর মানুষকে বঞ্চিত করেছে তার ভোটাধিকার থেকে। তাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা সংস্কারের কথা বলছি। কিন্তু সংস্কার নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা অবাস্তব। মানুষের মূল সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে যুক্তরাজ্যের আদলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, কীভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, কীভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমাদের হাজারো নেতাকর্মী গুম হয়েছে, লাখ লাখ নেতাকর্মী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলার কারণে এখনো তাদের কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে। কিছুদিন আগেও ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাই যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা যদি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ যে সর্বনাশের খাদের কিনারে চলে গেছে সেখান থেকে তুলে আনতে সক্ষম হব।
অযথা তর্কবিতর্ক নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা অযাচিত তর্ক-বিতর্ক করে জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষা থেকে যেন দূরে সরে না যাই। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষ প্রতিদিন যুদ্ধ করছে। এখন বাজার সিন্ডিকেট কাজ করছে। দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে। এই কাজগুলো করতে হলে সঠিক ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে হবে। আমরা যেন দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি না করি, যাতে করে পতিত স্বৈরাচার হোক অথবা এমন কেউ হোক যারা বাংলাদেশের ভালো চায় না তারা সুযোগ পেয়ে যায়।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ এ দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। শতাব্দীর নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট ছিল শেখ হাসিনা। তারা ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল।
প্রধান বক্তার বক্তৃতায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, আগামী নির্বাচনে মুসলমানরা আল্লাহর নাম নিয়ে, হিন্দুরা ভগবানের নাম নিয়ে ধানের শীর্ষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করবে।
খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী বেবী নাজনীন, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুল ইসলাম, জয়ন্ত কুণ্ডু, সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যশোর জেলা বিএনপি সভাপতি সাবেরুল ইসলাম সাবু, কাজী আলাউদ্দিন, আমিরুল ইসলাম কাগজী প্রমুখ।
