অসহায়কে সহায়তা না করার পরিণতি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩৮ এএম

সৃষ্টির সেবা করা মহৎ কাজ। সৃষ্টির সেবা থেকে নিজেকে বিরত রাখা ঘৃণিত ও অন্যায়। কারও সামর্থ্য থাকার পরও অসহায়ের সেবা না করলে পরকালে মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। সে বলবে, আমি আপনাকে কীভাবে দেখতে আসতে পারি? আপনি তো সারা বিশ্বজগতের প্রতিপালক! তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, তবুও তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে, তবে তুমি আমাকে তার নিকট পেতে? (আল্লাহ বলবেন) হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খাদ্য দাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আপনি তো বিশ্বজাহানের মালিক! আমি আপনাকে কীভাবে খাওয়াতে পারি? তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে খাদ্য দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে খাবার খাওয়াতে তাহলে আমার কাছ থেকে তা পেতে। (আল্লাহ বলবেন) হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম অথচ তুমি আমাকে পানি দাওনি। সে বলবে, আপনি হলেন সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আপনাকে আমি কীভাবে পানি পান করাতাম? তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি পান করতে চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে পান করাতে তবে তার পুরস্কার আমার কাছে পেতে।’ (সহিহ মুসলিম)

আলোচ্য হাদিসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা ও খোঁজখবর নেওয়া, ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দান করা এবং পিপাসিত ব্যক্তিকে পানি পান করানো। অসুস্থ মানুষের প্রতি সমাজের অন্য মানুষের দায়িত্ব হলো তাদের সেবা করা, দেখতে যাওয়া, চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহ প্রদান, মানসিক আস্থা তৈরি করা এবং দোয়া করা। হাদিসের ভাষ্যমতে, কাউকে অসুস্থ জানার পরও তাকে দেখতে না গেলে কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে। মানবসেবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দান করা। আল্লাহর একজন অভাবী ও অভুক্ত বান্দাকে ক্ষুধার্ত রেখে নিজে পেটপুরে খাবার গ্রহণ করলে কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। প্রকৃত মুমিন হতে হলে এবং আল্লাহর প্রিয় হতে চাইলে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাওয়ানোর কোনো বিকল্প নেই। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে তৃপ্তি সহকারে আহার করে সে মুমিন নয়।’ (তহাবি শরিফ)

পিপাসিত ব্যক্তিকে পানি পান করানো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। এটি একটি মানবকল্যাণমুখী কর্ম। হাদিসের ভাষায় একে উত্তম সদকা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সবচেয়ে উত্তম সদকা হলো মানুষকে পানি পান করানো।’ (আবু দাউদ)

ওপরের তিনটি কাজই মানবকল্যাণমুখী কাজ। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে এ ধরনের কাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। আল্লাহর কাছেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসের ভাষ্যমতে, মানবকল্যাণমুখী কাজ মানুষকে বিপদাপদ ও অপমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত