আয়নাঘরে বন্দি ছিলাম পিতার মৃত্যুর খবরও পাইনি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

দীর্ঘদিন কারাভোগ ও নির্যাতনের পর মুক্তি পেয়ে প্রথমবারের মতো বাবার কবর জিয়ারত করেছেন জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালা বাজারে মীর কাশেমের প্রতিষ্ঠিত মসজিদের পাশে কবরটি জিয়ারত করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চালা গ্রামে পৌঁছান আরমান। সেখানে কবর জিয়ারত শেষে বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি। জুমার নামাজ শেষে স্থানীয়দের কাছে আলোচিত ‘আয়না ঘরে’ বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আরমান।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আয়না ঘরে বন্দি থাকায় আমি সুনিশ্চিতভাবে আমার পিতার মৃত্যুর সংবাদটিও জানতে পারিনি। আমার পিতার মামলায় আমি নিজেই একজন আইনজীবী ছিলাম। ওই মামলার একদম শেষ পর্যায়ের শুনানি চলছিল। ফাঁসি কার্যকরের ঠিক ২৩ দিন আগে আমাকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আট বছর আমাকে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়। ওই আট বছর আমি জানতে পারিনি আমার পিতার কী হয়েছে। আমার পরিবার জানতে পারেনি আমি কি বেঁচে আছি না মারা গেছি। ছাত্রদের বিপ্লবের পর আমাকে মুক্ত করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুক্ত হয়ে জানতে পারি, আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা ফাঁসি দিয়েছে। আয়না ঘর থেকে বের হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার দুই চোখে ছানি পড়ে গিয়েছিল। আমি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। দেশে ফিরে আমি এই প্রথম আমার পিতার কবর জিয়ারতের জন্য আসি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তর অঞ্চলের টিম সদস্য ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা দেলোয়ার হুসাইন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত