মেট্রোর আদলে তৈরি কোচ চলবে ঢাকা-নরসিংদী রুটে

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৫, ০২:৩৯ এএম

জরাজীর্ণ বগিকে মেট্রোর আদলে করা হচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায়। ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-নরসিংদী রুটে চলাচলের জন্য দুটি বিশেষ ট্রেনের জন্য এ সব কোচ তৈরি করা হচ্ছে। সাব আরবান হিসেবে ব্যবহৃত হতে যাওয়া এই দুই ট্রেন দিয়ে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারবে। আগামী ২৪ মার্চের মধ্যেই এসব ট্রেন পরিবহন বিভাগে হস্তান্তরে কাজ চলছে।

গত বুধবার পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানা ঘুরে দেখা যায়, কারখানার শ্রমিকরা কাজ করছেন পুরোদমে। কেউ বা রঙ দেওয়ার কাজ করছেন, কেউ সিট বসাচ্ছেন, কেউ বা জানালায় ইস্পাতের পাত বসাচ্ছেন, আবার কেউ বা দরজা লাগাচ্ছেন।  পুরো কারখানা জুড়ে বিভিন্ন শপে বিভিন্ন ধরনের কাজ চলছে।  রেলওয়ে কারখানার এসএস ফিটার জামালা হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে প্রায় ২২টি বিভাগের কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ হচ্ছে। সাধারণ সময়ে আমরা মাসে ৩৫টি কোচ প্রস্তুত করলেও ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৫০ দিনে আমরা ৯০টি কোচ রেডি করে দিচ্ছি রেলপথে চলাচলের জন্য।’

এ বিষয়ে কারখানার বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনো কোনো বগিতে এসির কাজ চলছে। সেগুলো মেরামতের জন্য পৃথক শপ (কারখানা) রয়েছে। আবার  কোথাও চলে পেইন্টের কাজ, সিট লাগানো কিংবা মেরামতের কাজ, টয়লেটের কাজ, পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কাজ। সব কাজ করার জন্য পৃথক পৃথক শপ রয়েছে।’

পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১ >

মেট্রোর আদলে তৈরি কোচ চলবে ঢাকা-নরসিংদী রুটে

 

 

 

প্রতি বছর ঈদ এলেই এভাবে বাড়তি কাজ করে কোচ প্রস্তু‘ত করা হয়ে থাকে। তবে এবারের কাজের কোনো নতুনত্ব রয়েছে কি না জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার আমরা ঢাকার মেট্রো রেলের আদলে ২০টি কোচ রেডি করছি। এগুলো দিয়ে দুটি ট্রেন পরিচালনা করা যাবে। এসব কোচে দুই পাশে সিট মাঝখানে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব কোচ রেডি করতে গিয়ে কোচের ভেতরে সম্পূর্ণ কাঠামো নতুনভাবে বসাতে হচ্ছে।’

কিন্তু রেলে তো দিন দিন জনবল কমছে এবং অভিজ্ঞদের ঘাটতি রয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার এখানে ২২০০ লোক কাজ করার কথা। কিন্তু মাত্র ৪০ শতাংশ লোক রয়েছে। তারপরও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আমরা কোচের জোগান দিয়ে যাচ্ছি।’

মেট্রোর আদলের নতুন কোচগুলো কোন রুটে চলবে জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সবুক্তগীন বলেন, ‘দুটি ট্রেন ঢাকা-নরসিংদী ও ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে চলাচলের কথা। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটেও স্পেশাল ট্রেন থাকবে।’

কোচের পাশাপাশি ইঞ্জিনও মেরামত করা হয়ে থাকে ঈদ উপলক্ষে। এ বিষয়ে পার্বতীপুরে থাকা দেশের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রীয় লোকোমেটিভ কারখানার প্রধান ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কারখানায় ৭২৪ জন জনবলের মধ্যে রয়েছে মাত্র ২১০ জন। আবার এদের মধ্যে অভিজ্ঞ যারা ছিল তারা অবসরে চলে গেছেন। ইঞ্জিন মেরামতের জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের এই ঘাটতি আমাদের ভোগাচ্ছে। আবার জনবল নিয়োগ বন্ধ থাকা এবং পদোন্নতি নীতিমালার সমস্যার কারণে উপরের পদগুলোতে পদোন্নতিও দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে আমরা জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১১টি মিটার গেজের ইঞ্জিন সরবরাহ করছি। এতে ইঞ্জিন সংকট কিছুটা হলেও কেটে যাবে।’

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রেলেওয়ের বিভিন্ন শেড এবং ডিপোতে পড়ে থাকা আগুনে পোড়া-জরাজীর্ণ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বগিগুলো মেরামত হয়ে থাকে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায়। পাহাড়তলী ছাড়াও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সৈয়দপুর কারখানায়ও কোচ মেরামতের কাজ হয়ে থাকে। তবে সেখানে হয় ব্রডগেজের কোচ। ব্যবহার অনুপযোগী এ সব কোচকে নতুনভাবে তৈরি করা হয়। আর তা দিয়ে স্পেশাল ট্রেন চালানোর পাশাপাশি বিদ্যমান ট্রেনগুলোতে কোচের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এতে বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে। অপরদিকে রেলওয়েতে ইঞ্জিন সমস্যা সমাধানের জন্য পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমেটিভ কারখানা থেকে ১১টি ইঞ্জিন সরবরাহ করা হচ্ছে। আর তা করা গেলে রেলওয়েতে কোচ ও ইঞ্জিন সমস্যা একইসঙ্গে সমাধান করা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত