বিশ্ব জুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি ভয়াবহ বছর হলো ২০২৪। এ সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে প্রায় ৯ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন রুটগুলোতে অন্তত ৮ হাজার ৯৩৮ জন মারা গেছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতীর রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী কমপক্ষে ৮ হাজার ৫৬৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়; ওই সংখ্যাও ছিল আগের ১০ বছরের সর্বোচ্চ।
আইওএমের উপপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এই মৃত্যু অগ্রহণযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একজন মানুষ রয়েছেন, যার জন্য এই ক্ষতি ভয়াবহ।
আইওএম আরও জানিয়েছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত অনেক বেশি। কারণ সরকারি সূত্রের অভাবের কারণে অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।
আইওএম বলছে, ২০২৪ সালে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ মারা গেছেন, যা যথাক্রমে ২ হাজার ৭৭৮, ২ হাজার ২৪২ এবং ২৩৩ জন। ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকারীদের প্রধান প্রবেশদ্বার ভূমধ্যসাগরে ২ হাজার ৪৫২ জন মারা গেছেন বলে রেকর্ড করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩৩ জন মারা গেছেন। তাছাড়া ২০২৪ সালে ক্যারিবিয়ানে ৩৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, কলম্বিয়া এবং পানামার মধ্যবর্তী ড্যারিয়েন জঙ্গল অতিক্রম করতে গিয়ে ১৭৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
অভিবাসন রুটের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভূমধ্যসাগরকে। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া ও তিউনিশিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপের দক্ষিণে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন।
আইওএম জানিয়েছে, ২০২৩ সালে আফ্রিকা অঞ্চলের ১ হাজার ৮৬৬ জন এবং এশিয়া অঞ্চলে ২ হাজার ১৩৮ জন অভিবাসীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। আফ্রিকান অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকাংশ মারা গেছেন সাহারা মরুভূমিতে এবং স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রপথে।
২০১৪ সালে অভিবাসীদের মৃত্যু ও নিখোঁজ সম্পর্কিত একটি ওপেন-অ্যাক্সেস ডেটাবেজ হিসেবে ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’ তৈরি করে আইওএম। মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট অনুসারে, ২০১৪ সাল থেকে অভিবাসনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন এমন ২৬ হাজার ৫৩৩ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়নি।
ড্যানিয়েলস বলেন, ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট থেকে পাওয়া এই ভয়ংকর পরিসংখ্যানগুলো আমাদের দেখিয়েছে, বৃহত্তর পদক্ষেপের জন্য আমাদের আবারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, যাতে সবার জন্য নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত হয়। তাহলে এখন থেকে ১০ বছর পর মানুষ উন্নত জীবনের সন্ধানে আর জীবনের ঝুঁকি নিতে অনিয়মিত অভিবাসনের পথে পা বাড়াবেন না।’
