তারেক রহমান বললেন

ঐক্য ধরে রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৩ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘রাজনীতিতে ভিন্ন মত থাকলেও দেশ ও দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে ফ্যাসিবাদবিরোধী সবাই একমত। তাই যে ঐক্য নিয়ে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, সেই ঐক্য ধরে রেখে প্রত্যাশিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাই।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর মালিবাগের স্কাই সিটি হোটেলে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তারেক রহমান এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের যেকোনো মূল্যে ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। মত-ভিন্নতা থাকবে, আমরা বসব, আলোচনা করব। এমন কিছু আমরা বলব না, এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করব, যাতে করে কোনোভাবেই স্বৈরাচার বা তার প্রেত্মাতারা আবার এদেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসতে পারে না পারে। এটি হোক আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের শপথ।’

আন্দোলনে সহকর্মী-আপনজনদের হারানোর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘যে ঐক্যকে নিয়ে আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম সেই ঐক্যকে আমরা ধরে রাখি। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আগামী দিনে এই ঐক্যকে বজায় রেখে, ধরে রেখে এদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করব। এদেশের মানুষের প্রত্যাশিত সংস্কার প্রক্রিয়াকে আমরা সকলে মিলে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব।’

আড়াই বছর আগে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়টিও তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে দেখছি, একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। এখানে আপনারা সবাই রাজনীতিবিদ। গণতন্ত্র বলতে একজন সাধারণ মানুষের কাছে কি বুঝা যায়? সাধারণ মানুষের কাছে এই কথায় নির্বাচন, নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার যে সিস্টেম সেটিকে গণতন্ত্র বলি আমরা। কেউ কেউ বলছেন সংস্কার শেষ হলে তারপরে নির্বাচন হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, যেটা শেষ হয়ে যায় সেটা তো সংস্কার হতে পারে না। সংস্কার একটা কনটিনিউআস প্রসেস, চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে গাফিলতিগুলো আছে, সেই ত্রুটিগুলোকে আমরা সংস্কার করব, পরিবর্তন করব এবং সময়ের সঙ্গে আরও যখন সামনে এগিয়ে আরও ভালো ব্যবস্থা করব। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করব। দেশের মানুষের জন্য যে চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে সেটিকে আমরা পরিবর্তন করব, উন্নত করব। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেটি এগিয়ে যাওয়ার পর আরও ভালো করার চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা যারা আছি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ আমাদের রাজনৈতিক ভিন্ন মত আছে, আদর্শ সবার এক নয়। কিছু কিছু ভিন্নতা আছে। কিন্তু একটি জায়গায় আমরা সকলে এক- তা হচ্ছে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ ও গণতন্ত্র। এখানে কিন্তু কোনো বিভেদ নেই। ব্যাসিক বিষয়টিতে আমরা সকলে একত্রিত।’

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও মুখপাত্র জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদার সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় বিএনপির সেলিমা রহমান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের ফারুক হাসান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) কাজী নাহিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ইফতারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, মাহাদি আমিন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ফারুক রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত