স্বস্তির যাত্রায় বাড়তি ভাড়া আর গরমের অস্বস্তি

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০১:৩৭ এএম

শহুরে নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ফেলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা। রাজধানীর সড়কগুলোতে গতকাল শুক্রবার ছিল না চিরচেনা ব্যস্ততা বা যানজট। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩১ মার্চ পালিত হতে পারে ঈদুল ফিতর। সম্ভাব্য এ তারিখ ধরে গত বৃহস্পতিবারই ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। এদিন বিকেলে অফিস-আদালত ছুটির পর থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। যার ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালেও বহু মানুষকে ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে ঢাকা ছাড়তে দেখা যায়। তবে এবারের ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত বাস টার্মিনাল, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও লঞ্চঘাটে চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়েনি। তাইতো যাত্রীদের চোখেমুখে বিরাজ করছিল স্বস্তির ভাব। অবশ্য তাদের এ স্বস্তিতে বাগড়া বসায় যানবাহনের বাড়তি ভাড়া এবং এর সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। অন্যদিকে ঢাকা ছাড়তে পড়তে হয় যানজটে। সব মিলিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও এবারের ঈদযাত্রা গতকাল পর্যন্ত স্বস্তিরই ছিল বলা চলে।

এদিকে কমলাপুল স্টেশন থেকে সব ট্রেন সময়মতো ছাড়লেও ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে জাল টিকিট পাওয়ার বিষয়টি তুমুল আলোচনায় এসেছে। অনেক যাত্রীকেই জাল টিকিটে প্রতারিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। গতকাল রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাউন্টারগুলোতে অন্যবারের মতো উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়নি। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কাক্সিক্ষত সংখ্যক যাত্রী না পাওয়ার আক্ষেপ যেমন দেখা গেছে অন্যদিকে বাড়তি ভাড়ার চাপে স্বল্প আয়ের মানুষরা পড়েন বিপাকে। নৌপথের চিত্রও ছিল প্রায় একইরকম। পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকলেও আশানুরূপ যাত্রী নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জায়গা থেকে যানজটসহ যাত্রী ভোগান্তির বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর এসেছে।

এবারে ঈদযাত্রায় চিরচেনা ভিড় না থাকার যুক্তি হিসেবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় কয়েক দিন ধরে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। ফলে একসঙ্গে বেশি যাত্রীর চাপ নেই বাসগুলোতে। আর বাড়তি ভাড়ার কারণ হিসেবে শোনা গেছে, ফিরতি পথে বাসগুলো আসছে অনেকটা যাত্রীশূন্য হয়ে। আর এ লোকসান পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে।

ট্রেনের জাল টিকিটে গচ্চা ভাড়ার টাকা : এবারের ঈদযাত্রার প্রথম তিন দিন যাত্রী কম থাকলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেনে ভিড় বাড়তে থাকে। গতকালও ট্রেনে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় কমলাপুর স্টেশনে। নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াচ্ছে ট্রেন। হাতে সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে ট্রেনে উঠছেন যাত্রীরা। তবে এসব যাত্রীর অনেকের কাছেই জাল টিকিট পাওয়া গেছে। অনেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ দামে জাল টিকিট কিনে প্রতারিত হয়েছেন।

চেকিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, এক যাত্রী একতা ট্রেনে শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশনে যাবেন। এজন্য দোকান থেকে একটি টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তার টিকিটটি ফটোশপের মাধ্যমে এডিট করা, সেটি তিনি স্টেশনে এসে বুঝতে পেরেছেন। পরে তাকে জরিমানাসহ ওই গন্তব্যের ভাড়া আদায় করে যেতে দেওয়া হয়। ওই জাল টিকিটে এনআইডির অনুলিপি দেওয়া আছে মো. হুজাইফা যাবির নামে এক ব্যক্তির। টিকিটে প্রারম্ভিক স্টেশনের জায়গায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের বদলে লেখা আছে কমলাপুর। গন্তব্য স্টেশনের জায়গায় লেখা আছে মিস্টার এম মনসুর আলী।

দিনাজপুরের যাওয়ার জন্য কমলাপুর স্টেশনে আসা মো. ইমন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘প্রথমে অনলাইনে টিকিট না পেয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছি। এবার জাল টিকিটের ছড়াছড়ি দেখা গেছে কমলাপুর স্টেশনে। সরকারের উচিত এসব প্রতারণা যারা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

স্টেশনটিতে দায়িত্বরত টিটিইরা জানান, চেক করলেই ১০০টি টিকিটের মধ্যে ১০টির বেশি জাল পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে উপস্থিত থাকা রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকে এরকম অসংখ্য জাল টিকিট পাওয়া গেছে। তাদের অনেককে বের করে দেওয়া হয়েছে স্টেশন থেকে; আবার অনেককে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করে যেতে দেওয়া হয়েছে।

কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৩টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছাড়ছে।’

বাসে আশানুরূপ যাত্রী না পাওয়ার আক্ষেপের সঙ্গে বাড়তি ভাড়া: বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহাবুব হাসান সাধারণ কোনো পরিবহনের অগ্রিম টিকিট কেটে বাড়ি যান না। গাবতলীতে এসে যেকোনো লোকাল বাসে পাটুরিয়া, তারপর ফেরিতে নদী পার হয়ে অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছে যান। এবারও একই প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল গাবতলী বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্য সময় পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত লোকাল বাসে ১৫০ টাকা দিয়ে গেলেও এবার তার গুনতে হয়েছে দ্বিগুণ ৩০০ টাকা ভাড়া। এ রুটে কোনো কোনো যাত্রীর কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি ভাড়া নিতেও দেখা গেছে। গাবতলীতে অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা জানান, বাস ঠিক সময়ে ছাড়ছে। তবে আশানুরূপ সংখ্যায় যাত্রী না পাওয়ায় আক্ষেপ করতে দেখা গেছে পরিবহন শ্রমিকদের।

বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গাবতলী টার্মিনালে দায়িত্বরত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভিজিলেন্স টিমের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।’

সরেজমিন দেখা গেছে, গাবতলী বাস টার্মিনালে গত ঈদযাত্রার মতো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় নেই। কাউন্টারের সামনে টিকিট বিক্রয় প্রতিনিধিরা খুঁজছেন যাত্রী। কেউ কেউ আবার হ্যান্ডমাইকেও ডেকে ডেকে যাত্রী খুঁজতে ব্যস্ত। বরিশাল রুটের সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার মো. ফারুক বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে গাবতলীতে যাত্রী আর আগের মতো আসে না। এখনো চিল্লায়ে টিকিট বিক্রি করছি। সিটও খালি আছে।’

গাবতলীর সড়কে যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সচেষ্ট থাকতে দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ীতে বাড়তি ভাড়ার চাপ : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকা ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বিপাকে পড়তে দেখা যায় স্বল্প আয়ের মানুষদের। অনেককে পিকআপ ভ্যান বা অন্য বিকল্প যানে বাড়ির পথে ছুটতে দেখা যায়। পদ্মা সেতু হয়ে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান থেকে ২১ জেলায় বাস চলাচল করে।

দুপুর ১২টার দিকে কথা হয় মাদারীপুরগামী বাসের যাত্রী আবু জাফরের (৫৫) সঙ্গে। তিনি যাবেন কালকিনি। আলাপকালে বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীর কাউন্টারে এসে হিসাব মেলাতে পারছি না। কয়েক দিন আগেও সার্বিক পরিবহনে ৪০০ টাকায় মাদারীপুর গিয়েছি। এখন ভাড়া চাইছে ৭০০ টাকা। ঈদ এলেই বাসের লোকদের অতিরিক্ত ভাড়ার প্রবণতা দেখি।’ তবে পাশেই সার্বিক পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. জহির অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছি। একটি ট্রিপে জ্বালানি, টোলসহ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা খরচ আছে। এরপরও আমরা লস দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি।’

অবশ্য সার্বিক, চন্দ্রাসহ মাদারীপুর রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি বাসের যাত্রীরা বলেন, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। বরিশালগামী বাসগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

দুপুর পৌনে ১টার দিতে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ তেমন নেই। তবে যে বাসগুলো চাঁদপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও অন্যান্য গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে; তার সবকটিতে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে দেখা গেছে। চাঁদপুরগামী পদ্মা পরিবহনে ৪০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা নিতে দেখা গেছে। কুমিল্লার লাকসামগামী ‘তিশা’ পরিবহনেও বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

মহাখালীতেও বাড়তি ভাড়া : মহাখালী বাস টার্মিনালেও বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে দেখা গেছে যাত্রীদের। মহাখালী থেকে বিভিন্ন রুটের বাসগুলোতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হয় যাত্রীদের। যদিও বাড়তি ভাড়ার জন্য বিআরটিএ থেকে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়। বাড়তি ভাড়া নেওয়ায় মহাখালী বাস টার্মিনালে ‘বিনিময়’ নামে একটি পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিআরটিএ। পরিবহনটির একটি বাস চলাচলের ওপর এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেন বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট।

এদিন দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ৩৯০ টাকার ভাড়া বাসটি ৫০০ টাকা করে নিয়েছে। যাত্রীদের এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সিনিয়র সচিব উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটদের বাসটির কাগজপত্র নিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে পরিবহনটির শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষিণক বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটরা। আলোচনায় বাসটিকে জরিমানা না করে সাত দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এহছানুল হক বলেন, ‘কোনো পরিবহন বেশি ভাড়া নেয় তাহলে অভিযোগ করলে আমরা ওই পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করব।’

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার ঈদযাত্রায় ট্রেনে চলাচলের সময় ঠিক থাকায় যাত্রীরা স্বস্তি পাচ্ছেন। কিন্তু টিকিট কালোবাজারি ও জাল টিকিটের জন্য ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বেশিরভাগ রুটে। সরকারের উচিত এসব বিষয়ে আরও ভালোভাবে মনিটরিং করা।’

পর্যাপ্ত লঞ্চ আছে, আশানুরূপ যাত্রী নেই : সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল যাত্রীদের তেমন চাপ না দেখা গেলেও লঞ্চ ছাড়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। টার্মিনাল সংশ্লিষ্টরা বলেন, পদ্মা সেতুর সুবিধা ও দীর্ঘ ছুটির কারণে যাত্রীদের চাপ অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। ফলে নৌপথে ঈদের যাত্রা এবার বেশ স্বস্তিদায়ক হচ্ছে। তবে যাত্রী কম থাকায় লঞ্চগুলো বিলম্বে ছাড়ছে। গতকাল ছুটির দিন থাকায় আগের কয়েক দিনের তুলনায় সদরঘাটে যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা রুটের লঞ্চগুলোতেও যাত্রী ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে সবরকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ (গতকাল) দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে ৪০টির মতো লঞ্চ ছেড়ে গেছে। রাত পর্যন্ত এ সংখ্যা শতাধিক হবে। যাত্রীর চাপ বাড়লেও কোনো সমস্যা নেই।’

গতকাল সকালে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ থাকলেও দুপুর থেকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেছে। সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের জটলা কমতে থাকে। দুপুর ২টার দিকে স্বাভাবিক হতে শুরু করে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে। মহাসড়কের রূপগঞ্জের বেশ কয়েকটি অংশে দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে।

ট্রাক উল্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বালুবাহী ট্রাক উল্টে দুই লেনে অন্তত ২০ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চান্দিনার ইলিয়টগঞ্জ বাজারের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র যানজট ও প্রচ- গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। চট্টগ্রামমুখী লেনে ১৫ কিলোমিটার ও ঢাকামুখী লেনে ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ট্রাকটি সরিয়ে নেয় হাইওয়ে পুলিশ। সেনা ও পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনে কাজ করেন।

গাজীপুরে চিরচেনা যানজট ছিল না ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। গত ১২ বছর বিআরটি প্রকল্পের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা যানজটে দুর্ভোগের শিকার হলেও এবার ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত যানজটে পড়তে হয়নি ঘরমুখো যাত্রীদের। টাঙ্গাইলের মহাসড়কে গণপরিবহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদুল ফিতরের ছুটি কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে। সকাল থেকেই ঘাটে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত