ভালো ও নীতিবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির সুযোগ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০১:৩৮ এএম

তাকওয়া প্রশিক্ষণের মাস রমজান। রমজানের রোজা মুমিনের মনে তাকওয়ার বীজ বুনে দেয়। রোজা রাখা অবস্থায় একজন মানুষ প্রতিটি সময় ইবাদতের মধ্য দিয়ে পার করতেই ব্যাকুল থাকে। তার ভেতরে আগের দিনের তুলনায় আরও ভালো হওয়ার তাগিদ থাকে। বহু মানুষ পাওয়া যাবে যারা রোজা উপলক্ষে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া শুরু করেন এবং বছর জুড়ে এ চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য নিজের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিতে লিপ্ত হন। রোজা উপলক্ষে অনেকে দাড়ি রাখতে শুরু করেন। রোজায় অনেক মানুষ প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস করেন, অনেকেই কোরআন খতম দেন। বছরের অন্য কোনো মাসে এমনটা হয় না। মানুষ এ মাসটিতে সর্বোচ্চসংখ্যক আমল করতে আগ্রহী হয়, কারণ রোজার মাসে এসব আমল করলে বছরের অন্য সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাছাড়া এ মাসে এসব ইবাদতের কারণে সংশ্লিষ্ট আমলদার ব্যক্তির মাঝে বছর জুড়ে আমল করার ইচ্ছা তৈরি হয়।

পবিত্র কোরআনে মুমিন বান্দার যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি হলো রোজা রাখা। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারী নারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী পুরুষ ও সুরক্ষাকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও স্মরণকারী নারী, তাদের সবার জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।’ (সুরা আহজাব ৩৫)

রমজান মাসের রোজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি রমজান মাসে রোজা পালন করা। আল্লাহতায়ালা শুধু যে আমাদের ওপর অর্থাৎ উম্মতে মুহাম্মদির ওপরই রোজা পালন করার আদেশ জারি করেছেন তা নয়, পূর্ববর্তী অনেক জাতি ও সম্প্রদায়কেও আল্লাহ রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটিই, যাতে মুমিন বান্দারা আরও বেশি তাকওয়ার গুণে সমৃদ্ধ হতে পারে। রোজাকে নিয়মিতভাবে সব জাতির ওপর বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি বড় কারণ হলো রোজার বহুমুখী উপকারিতা।

এক কথায় বলা যায়, রোজা হলো মুসলিমদের জন্য প্রশিক্ষণকাল। আমরা প্রায়ই বলি, ‘আমরা গুনাহগার, অনেক কিছুই যেভাবে করা উচিত করতে পারছি না।’ এসব অপরাধের জন্য আমাদের আবার নানা ধরনের অজুহাত দেওয়ারও চেষ্টা থাকে। রোজার মাসে আমাদের সবার ভালো মুসলিম হয়ে ওঠার চেষ্টা থাকা উচিত। সব অজুহাতকে জয় করার প্রয়াস জারি রাখা উচিত। একজন ভালো মুসলিম মানেই ভালো ও উত্তম একজন মানুষ। আমরা বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি, তাতে স্পষ্ট যে, এ দেশে সবচেয়ে বড় অভাব হলো ভালো মানুষের, সৎ নেতৃত্বের। আমাদের অনেক ইতিবাচক আকাক্সক্ষা, সুপরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে সৎ মানুষের অভাবে। আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে চাই তাহলে সৎ ও নৈতিকতার মানে উত্তীর্ণ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে রমজান মাস হলো সবচেয়ে কার্যকরী মাস, যে মাসটি সহজাতভাবেই সৎ, ভালো ও নীতিবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির সুযোগ করে দেয়। অপশাসনমুক্ত এ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবেই এবারের রমজান মাসটি তাই অনেক বেশি মহিমান্বিত পন্থায় উদযাপিত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের নিপীড়িত ও মজলুম মুসলিমরা বিশেষ করে গাজায় বিপর্যস্ত ও সব হারানো মানুষগুলোর কথা ভেবে অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। দোয়া করি, আল্লাহতায়ালা তার কুদরত দিয়ে এ অসহায় মানুষদের হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক : ইমাম ও খতিব, দারোগা আমীর উদ্দিন ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত