রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের অভিযোগে পিটুনির শিকার এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাছাড়া মোহাম্মদপর, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুর এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তিনজন আহতে হয়েছেন। অন্যদিকে ৬১টি চোরাই ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোনসহ চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঈদের ছুটি চলাকালে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুুলিশ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মিরপুরের পল্লবী এলাকার ১২ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে রবিবার গভীর রাতে প্রাইভেট কার নিয়ে ছিনতাই করার সময় রিয়াদ হোসেন নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে জনতা। এ সময় প্রাইভেট কারে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতার মারধরের একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল টিম রিয়াদকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পল্লবী থানায় নিয়ে গেলে গুরুতর আহত দেখে রিয়াদকে গ্রহণ করতে রাজি হননি পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার। পরে তাকে আবার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে তাকে ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে রিয়াদের স্ত্রী ও তার আত্মীয়স্বজন ছিলেন। তাদের সহযোগিতায় রিয়াদকে পল্লবী থানায় নিয়ে আসা হয়। ওইদিন গভীর রাতে ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে রিয়াদ মারা যান। পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত ৩ : মঙ্গলবার সকালে শ্যামপুরের মীর হাজিরবাগ এলাকায় ছিনতাইকারী কর্তৃক ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক পান্নু মাতব্বর (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ২৬ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। আহতের ভাতিজি মোছা. রুমা জানান, মীর হাজিরবাগ এলাকায় হাবু কমিশনারের বাড়ির কাছে ইঞ্জিনিয়ার গলিতে পান্নু ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে শ্যামপুর থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একইদিন মোহাম্মদপুর ৪০ ফিট এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন ফুডপান্ডার ডেলিভারি কর্মী মানিক মিয়া। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তার ভগ্নিপতি সুমন জানান, রাত ১১টার দিকে বসিলার ৪০ ফিট এলাকায় খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়েছিল মানিক। পথে কয়েকজন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর তার কাছ থেকে ফুডপান্ডার ব্যাগ, মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে সেন্টমার্টিন সি ভিউ ট্রাভেল এজেন্সির সুপারভাইজার ইমন ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। ইমনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বন্ধু নাঈম। তিনি জানান, ডিউটি শেষ করে গ্রামের বাড়ি বরিশাল যাওয়ার জন্য ভোরের দিকে সায়েদাবাদ রেল ক্রসিং পার হচ্ছিল ইমন। এ সময় চার-পাঁচ ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিতে বাধা দিলে তার কোমরের নিচে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ জানান, রাতে মোহাম্মদপুর এবং সকালে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চোরাই ল্যাপটপসহ গ্রেপ্তার ২ : পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই ল্যাপটপ ও চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির বাড্ডা থানা পুলিশ। তারা হলেন মাহথির মোহাম্মদ খান তমাল (২৪) ও তোফায়েল আহম্মেদ (২৬)। রবিবার গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত ৬১টি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
বাড্ডা থানা জানায়, উত্তর বাড্ডার পূর্বাচল এলাকার মো. সাকিব ও তার সহপাঠী মিলে একটি ব্যাচেলর বাসায় থাকেন। তাদের বাসাটি সাবলেট ভাড়া নেওয়ার জন্য গত ২১ মার্চ বিকেলে সাকিবের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বাসাটি দেখতে আসেন তমাল। পছন্দ হলে তিনি সাবলেট বাসা ভাড়া নেন। এরপর সাকিবের কাছ থেকে বাসার চাবি নিয়ে চলে যান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি পরদিন দেবেন বলে জানান। পরে সাকিব তারাবি নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হলে সুযোগ বুঝে তমাল বাসার চাবি দিয়ে তালা খুলে পড়ার টেবিলের ড্রয়ার থেকে ১১ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ, একটি হেডফোন ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় ৩০ মার্চ মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে ওইদিন পল্লবী থানার কালসী এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তমাল ও সহযোগী তোফায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
