মার্চে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৪ এএম

আবারও খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সুখবর মিলল। বিগত মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির তুলনায় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি গত মাসে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি। ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

গতকাল মঙ্গলবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এতে দেখা যায়, মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। তবে এ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি। মার্চের পুরো সময় জুড়ে ছিল রমজান। রমজান মূলত উৎসবের মাস। ফলে এ মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের বিকিকিনি বেশি হয়। বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও প্রসাধন পণ্যের চাহিদা এ সময়ে বৃদ্ধি পায়। ফলে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মূল্যও বেড়ে যায়। যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ।

আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সেটি সফল করতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা। কারণ সার্বিক মূল্যস্ফীতির যে বাস্কেট রয়েছে সেখানে খাদ্যপণ্যের তুলনায় খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের তালিকা বড়। আর খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেলে তবেই বোঝা যাবে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

এদিকে মার্চে গ্রামাঞ্চলে আগের মাসের তুলনায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। এ মাসে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময়ে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কমলেও শহরে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

এদিকে মার্চে মজুরি হার আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের মাসে মজুরি হার ছিল ৮ দশমিক ১২ শতাংশ, যা মার্চে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ হয়েছে। তবে মজুরি হার বৃদ্ধি পেলেও তা মূল্যস্ফীতির নিচেই অবস্থান করছে। ফলে মানুষের প্রকৃত মজুরি আরও কমে গেছে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, কৃষি, শিল্প ও সেবা সব খাতেই মজুরি হার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিতে মজুরি হার বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর মার্চে সেবা খাতে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত