ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ফ্ল্যাট নেন টিউলিপ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৬ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে রিজওয়ানা সিদ্দিকী টিউলিপ প্রভাব খাটিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মালিকানাধীন গুলশানের ১ বিঘা ১৯ কাঠার বেশি জমি ইস্টার্ন হাউজিং কোম্পানির নামে স্থানান্তর করান। পরে ওই প্লটে নির্মিত একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছ থেকে বিনামূল্যে নেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে সরকারি জমি বেসরকারি কোম্পানির নামে স্থানান্তর করিয়ে ঘুষ হিসেবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় টিউলিপসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

দুদক মহাপরিচালক বলেন, পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের মালিকানাধীন গুলশান-২-এর ৭১ নম্বর রোডের ১১-এ ও ১১বি (নতুন) ৫ নম্বর বাড়ির বি-২০১ নম্বর প্লটটি কোনো টাকা ছাড়াই অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছ থেকে নেওয়ার অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিকীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন রাজউকের সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো খসরুজ্জামান ও সরদার মোশাররফ হোসেন। অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের জহুরুল ইসলাম ও রাজউকের উপদেষ্টা ড. মো. সেলিম মারা যাওয়ায় আসামি করা হয়নি।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্র বলছে, পাকিস্তান আমলে ১৯৬৩ সালের রাউকের (তৎকালীন টিআইটি) মালিকানাধীন গুলশানের এনই (এ) ব্লকের ৫ নম্বর প্লটটি সাবেক প্রধান বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরীর নামে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে প্লটটি মুজিবুর রহমান ভুঁইয়ার নামে আমমোক্তার দেওয়া হয়। লিজের শর্ত ছিল এটি অন্য কারও নামে হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে ১৯৭৪ সালে মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া প্লটটি বিভাজন করে তার স্ত্রী শামসুন নাহার ও শ্যালিকা জেরিন বেগমের কাছে বিক্রি করেন। পরে শামসুন নাহার তার প্লট ইস্টার্ন হাউজিংয়ের মালিক জহুরুল ইসলামের দুই মেয়ে নাইম ইসলাম ও কানিতা ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। তারা প্লটের যাবতীয় কাজের জন্য তাদের বাবা জহুরুল ইসলামকে আমমোক্তার নিয়োগ করেন। জহরুল ইসলাম প্লটটি দুই ভাগে ভাগ করে ছয়তলা ভবন নির্মাণকালে মারা যান। তখন নাইম ইসলাম ও কানিতা ইসলাম তাদের ভাই মঞ্জুরুল ইসলামকে আমমোক্তার নিয়োগ করেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সেই আমমোক্তার বাতিল করা হয়। প্লটটি অন্যের নামে হস্তান্তর করতে রাজউকের আইন উপদেষ্টারা সুপারিশ করেন। দুদকের অনুসন্ধান সূত্র আরও বলছে, রাজউকের রেজিস্ট্রি লিজ দলিল অনুযায়ী প্লটটি ৯৯ বছরের আগে হস্তান্তরযোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার বানিয়ে প্লট বিভাজন করে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টিউলিপ সিদ্দিকী ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। অবৈধ সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ হচ্ছে, টিউলিপ সিদ্দিকী বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০১ সালের ১৯ মে টিউলিপ সিদ্দিকী ফ্ল্যাট দখল বুঝে নিয়েছেন। ফ্ল্যটের মূল্য বাবদ ৪৫ লাখ ২৪ হাজার ৯২০ টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও তিনি মূল্য পরিশোধ ছাড়াই রেজিস্ট্রি করে নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত