১৫ বছর পর বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ-এফওসি (ফরেন অফিস কনসালটেশন) বৈঠকে অংশ নিতে বুধবার ঢাকায় এসেছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ। এ সফর দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনরায় জোরদার করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, থাই এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজে পাকিস্তান থেকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন আমনা বালুচ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান। আমনা বালুচ রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে উঠেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যকার বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শেষ এফওসি বৈঠক হয়েছিল ২০১০ সালে। এফওসি বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এপ্রিলের শেষভাগে ঢাকা সফরে আসতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সালের পর এটাই হতে যাচ্ছে পাকিস্তানি কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। যদিও তার সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। ইসহাক দারের সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে। গত ৫ মার্চ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি ঢাকা সফরে এসে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এফওসিতে যেসব বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে : পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিবের সফরে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় যেসব বিষয় অগ্রাধিকার পাবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস; পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করা; রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে আঞ্চলিক সহায়তা; সার্ক, ওআইসি এবং ডি-৮ ফোরামের মাধ্যমে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা; বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর ও যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পুনরায় কার্যক্রম শুরু।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রস্তাব। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি যৌথ কমিশন পুনর্বহালের বিষয়টি তুলতে পারে পাকিস্তান। এ ছাড়া বাংলাদেশের দিক থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
আসবে ঢাকা-ইসলামাবাদ অমীমাংসিত ইস্যু : পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে আন্তরিক বাংলাদেশ। তবে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো ভুলে যায়নি ঢাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, অমীমাংসিত বিষয়ের সুরাহা না করে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয় বাংলাদেশ। ঢাকা মনে করে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা, ১৯৭০ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানে ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেওয়া বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধের মতো বিষয়গুলোর সুরাহা জরুরি। ঢাকার চাওয়া, পাকিস্তান এগিয়ে আসুক। কেননা অমীমাংসিত বিষয়ে সুরাহা যতদিন হবে না, ততদিন তা সামনে আসবে। আলোচনার টেবিলে থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব বলেন বা মন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনায় অমীমাংসিত বিষয় থাকে। অমীমাংসিত ইস্যু যতদিন সুরাহা না হয়, ততদিন উঠতে থাকবে, এটা তো স্বাভাবিক। আমরা চাই এগুলোর সুরাহা বা মিটমাট হয়ে যাক। একটা অবস্থান নিক ওরা। সম্পর্ক সামনে এগোনোর জন্য ভালো হয় যদি তারা সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলে।
জানা গেছে, বৈঠকে অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা তোলা হবে। ৫৪ বছর ধরে আটকে পড়া পাকিস্তানের নাগরিকদের বিষয়টি আসবে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের শেষ বৈঠক হয়েছিল ২০০৫ সালে। এবারের বৈঠকের মাধ্যমে কমিশনের কার্যক্রম আবারও সক্রিয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফরের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সফর দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
৮ বছরের শিশুকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামে বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চালক-হেলপার গ্রেপ্তার
স্কুলছাত্রীকে চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ৪ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা
জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে ৭২৪ কোটি টাকা দেবে জার্মানি