পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনা

উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যাবে যুক্তরাষ্ট্রে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৮ এএম

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য। দলের সদস্যরা দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ বাঁধা ও দুই দেশের অর্থনীতির জন্য পরিপূরক পণ্যগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশ তাদের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭% শুল্ক আরোপ : চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামে (বিএসআরএফ) মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, সঞ্চালনায় ছিলেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর একপেশে শুল্ক আরোপ করেছে। এটি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হলেও পরে এটা কীভাবে সহনীয় করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শুল্ক সমস্যা সমাধানে প্রধান উপদেষ্টা নিজেও খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রায় প্রতিদিন তিনি সরকারের সব মহল, অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিবিদদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন। শুল্ক সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত, অর্থ উপদেষ্টাসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বিবেচনায় যে পাল্টা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে কিন্তু পণ্যের বিষয় বিবেচনা করা হলেও সেবার বিষয়গুলো আমলে নেওয়া হয়নি। আমরা তাদের বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছি, নানা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করছি, গুগল- ফেসবুকের মতো যত মাধ্যম রয়েছে এগুলো ব্যবহার করছি। এ সেবা তারা আমলে নেয়নি। এ ছাড়া তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক পণ্য আমদানি করছি। সবকিছু মিলে হিসাব করলে আমাদের যে বাণিজ্য ঘাটতি দেখানো হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে সেটা হবে না। এসব আলোচনা করে পাল্টা শুল্ক মোকাবিলায় কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যে প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, তারা আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিধি ঠিক করবেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কী চায়। তারা বাংলাদেশের ট্যারিফ-নন ট্যারিফ কাঠামো তুলে ধরবেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাঠামোতে বাণিজ্যের যে বৈচিত্র্য, সেটা নিয়ে আলোচনা করবেন।

উপদেষ্টা বলেন, এরমধ্যে আমরা চিন্তা করছি, যেসব পণ্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করি, ভবিষ্যতে সেগুলো আরও কীভাবে বাড়ানো যায়। সে জন্য আমাদের কী ধরনের অবকাঠামো দরকার, কী ধরনের নীতি সহায়তা দরকার, পাশাপাশি দুই দেশের পরিপূরক যেসব পণ্য  সেগুলোর বাণিজ্য কীভাবে বাড়ানো যায় (যেমন পশুখাদ্য, তুলা, তেলবীজসহ আরও যেসব পণ্য আমরা আনছি) সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এরপর চূড়ান্ত প্রস্তাব নিয়ে আমি নিজেই যুক্তরাষ্ট্রে যাব।‘

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের বিষয়ে বশিরউদ্দীন বলেন, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের ফলে কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহন খরচ ২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। আমাদের পদক্ষেপের মাধ্যমে শিগগিরি এ খরচ শূন্যের কোঠায় নেব।

তিনি বলেন, আমি নিজে পহেলা বৈশাখের দিন সারাদিন বিমানবন্দরে ছিলাম। নিজে বোঝার চেষ্টা করেছি, কীভাবে এ সমস্যা হচ্ছে, কেন আমাদের দেশের পণ্যবাহী কার্গোর আরেক দেশের সহায়তা নিয়ে তৃতীয় দেশে যেতে হচ্ছে। আশা করি এটা সমাধান করতে পারব। আবার গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে আমাকে আরেক (বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা) নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটা সেই কর্মসূচিকে গতিশীল করবে। আমি মনে করি, ঠিক যেভাবে বাজারকে পণ্যের বৈচিত্র্যময় সরবরাহ ঠিক করার মাধ্যমে স্থিতিশীল করেছি, সেভাবে বিমানে পণ্যবাহী কার্গো ঠিকমতো পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারব।

এ সময় তিনি বলেন, দিন দিন টাকার ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। ফলে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেলেও সংসার খরচে চাপ ততটা পড়বে না। আপনারা দেখেছেন, ক্রমান্বয়ে আমাদের মূল্যস্ফীতি নামছে। এখন কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমরা চাই না সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপটা পড়–ক। আমরা আমাদের সামগ্রিক প্রচেষ্টার মধ্যে এটা রেখেছি। তারপরেও মূল্যবৃদ্ধি পেলে সংসার খরচে চাপ ততটা পড়বে না।

তিনি বলেন, তেলের দাম ১৪ টাকা বেড়েছে, সেটা বাড়াতে বাধ্য হয়েছি। সরকারের যে নিজস্ব পরিচালন ব্যয় রয়েছে, সেই টাকাটা তো তুলতে হবে। না হলে রাষ্ট্রের দায় তৈরি হবে। সরকারকে লোন করে পরিশোধ করতে হবে। সে টাকা তো আপনাকে-আমাকে দিতে হবে। এখন আমরা কী সেটা করব, নাকি নিজেদের সামর্থে চলার চেষ্টা করব। এই কষ্টটা আমাদের করতে হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখন দেশে স্থানীয়ভাবে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তেল না এনে তেলবীজ এনে তেল করার চেষ্টা করছি। যাতে খরচ কম হয়, প্রতিযোগিতা বাড়ে। দেশে বড় বড় দুটি প্রতিষ্ঠান এখন বিনিয়োগে আসছে। টেকসইভাবে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত চার পাঁচ দিনে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে গিয়েছে পেঁয়াজের দাম। যদিও পেঁয়াজের এখন মৌসুম। কিছু পেঁয়াজ মজুদ হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাকে আজকে ডেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব। অন্য জিনিস যেমন মাছ, মাংস ও ডিমের দাম বলেন সেটা বেড়েছে বলে আমার মনে হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত