বাংলাদেশকে দেওয়া ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আগামী জুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফ জানিয়েছে, বৈশি^ক অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও তা এখনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে (৯ দশমিক ৪ শতাংশ)। আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ১২ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায়। বাংলাদেশ ব্যাংকে আইএমএফ মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এ কথা বলেন। সফরের সময় আইএমএফের দলটির অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, অর্থ সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এ ছাড়া তারা বেসরকারি খাত, গবেষণা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছে।
আইএমএফ প্রতিনিধিদল জানায়, ‘দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে এবং বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। বাংলাদেশকে দেওয়া ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ পাওয়ার বিষয়ে আগামী জুনে সিদ্ধান্ত হবে। জুনে আইএমএফের বোর্ড মিটিং আছে, সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে।
আইএমএফ মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে, যেখানে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, তবে এটি এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ৫-৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বাইরে। রাজস্ব আদায়ে কর সংস্কার, বিনিময় হারে নমনীয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন ও ব্যাংক খাত সংস্কারে জোর দিতে হবে। তাহলে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা, বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায়, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে ও রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এসব পদক্ষেপ। জলবায়ু-সহনশীল অর্থনীতিতেও বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব আলোচনা আগামীতে ওয়াশিংটনে আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বৈঠকেও চলবে।’
আইএমএফ বলেছে, বড় আকারের বৈদেশিক অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, বিনিময় হারে নমনীয়তা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের দিকেও দৃষ্টি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আইএমএফ জানিয়েছে, আগামী দিনে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সময়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের গতি বজায় রাখতে সম্ভাব্য চুক্তির লক্ষ্যে কাজ চলবে।
