সেনাবাহিনীর প্রেস ব্রিফিং

চবির ৫ শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত অভিযান চলছে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩৭ এএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির গিরিফুল এলাকা থেকে অপহরণের শিকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেখানে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনা সদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেট-এর পরিচালক (কর্নেল স্টাফ) কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ঈদের আগে ও পরে মিলে ২ সপ্তাহের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে নির্বিঘেœ যান চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের সকল জেলার বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, এবং লঞ্চ টার্মিনাল ও মহাসড়কে দিন-রাত টহল পরিচালনা করা হয়। স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় যা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ফলশ্রুতিতে, সড়ক দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকা- গত বছরের তুলনায় বহুলাংশে হ্রাস পায় যা জনসাধারণকে নির্বিঘেœ গন্তব্যে পৌঁছানোসহ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘনভাবে ঈদ উদযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে শিল্পাঞ্চলসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং ৩১ বার বিভিন্ন মূল সড়ক অবরোধ থেকে অবমুক্ত করেছে। শিল্পাঞ্চলে জাতীয় নিরাপত্তা বিধানকালে গত ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত রবিন টেক্স গার্মেন্টসে অস্থিরতা প্রশমনকালে নিয়োজিত সেনাসদস্যগণ কিছু গার্মেন্টস শ্রমিক কর্র্তৃক ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আক্রান্ত হয় এবং এতে ২৪ সেনা সদস্য আহত হন। ঈদপূর্ব গার্মেন্টসে অস্থিরতা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ, মন্ত্রণালয়, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও বিজিএমইএ সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধে বিশেষ ব্যবস্থা করে যা শ্রমিকদের মাঝে ঈদপূর্ববর্তী গতানুগতিক অস্থিরতা প্রশমনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও জানান, শিল্পাঞ্চল ছাড়াও সেনাবাহিনী বিগত দুই মাসে ২৩২টি বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ঘটনা ছিল ৩৭টি, সরকারি সংস্থা, অফিসসংক্রান্ত ২৪টি, রাজনৈতিক কোন্দল ৭৬টি এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ছিল ১৫টি।

তিনি আরও জানান, ১৩ তারিখে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলাতে খোলপেটুয়া নদীর প্রায় ৩০০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেলে আশপাশের প্রায় ৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দ্রুততম সময়ে বাঁধটি মেরামত করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানিবন্দি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেয়।

কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৮ মার্চ ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডে আঘাত হানে যার ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশী দেশের বিপদসংকুল এ সময়ে বাংলাদেশ সরকার জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেনাবাহিনীর কর্নেল শামীমের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ার কোরের ২১ জনের একটি উদ্ধারকারী দল এবং ১০ জনের একটি মেডিকেল দল প্রেরণ করা হয়। সেনাবাহিনী ছাড়াও নৌবাহিনীর ৩ জন, বিমানবাহিনীর ৩ জন, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর ১০ জন এবং ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি অসামরিক মেডিকেল দল প্রেরণ করা হয়। এই উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়ক দল প্রেরণের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর বিমান, বিমান বাহিনীর বিমান ও নৌজাহাজ ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্য সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত মোট ২ হাজার ৪৫৭ জনকে এবং এ পর্যন্ত সর্বমোট ৭ হাজার ৮২২ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের মাঝে কিশোর গ্যাং তালিকাভুক্ত অপরাধী, মাদক কারবারি, অপহরণকারী, চোরাচালানি, প্রতারক ও দালাল চক্র, চাঁদাবাজ, ডাকাত, ছিনতাইকারী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে সেনাবাহিনী ৩২০টি অবৈধ অস্ত্র ও ৫৬৪ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং এ যাবৎ পর্যন্ত সর্বমোট ৯,৩৭০টি অবৈধ অস্ত্র ও ২,৮৫,০৫২ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।

গুজবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেনাবাহিনী গুজবে বিচলিত নয়। আমরা সকল কাজ জনগণের উদ্দেশে করে যাব। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী প্রধানের রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেনাপ্রধানের এই সফর রুটিন অ্যাফেয়ার। তিনি রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনা সদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত