ধর্মগ্রন্থে শয়তান সম্পর্কে যা বলা হয়েছে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৫৩ এএম

বিশ্বের প্রায় সব ধর্মেই এক ধরনের অদৃশ্য অশুভ শক্তির কথা বলা হয়েছে, যা মানুষকে নৈতিক অবক্ষয়ের পথে পরিচালিত করে। ইসলাম ধর্মে এই অশুভ শক্তির প্রধান প্রতীক শয়তান বা ইবলিস, যাকে মানুষ ও মানবতার চিরশত্রু হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে শয়তানের পরিচয়, প্রকৃতি ও কৌশল বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যান্য ধর্মের গ্রন্থগুলোতেও শয়তান সম্পর্কে রয়েছে স্পষ্ট ও গভীর ব্যাখ্যা। কোরআনসহ তাওরাত, ইনজিলে শয়তান সম্পর্কে যে বর্ণনা রয়েছে, এখানে তা উপস্থাপন করা হলো।

শয়তানের পরিচয় : কোরআন-হাদিসে শয়তানকে প্রধানত দুটি নামে চিহ্নিত করা হয়েছে, শয়তান ও ইবলিস। আরবি ভাষাবিদরা বলেন, ইবলিস শব্দটি গ্রিক ‘ডায়াবোলস’ শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। অর্থ কুৎসা রচনাকারী, বিশ্বাসঘাতক ও মিথ্যুক। ইংরেজি ডেবিল শব্দটিও একই উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে। ‘শয়তান’ শব্দটি আরবি ‘শাতানুন’ শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ কূপ থেকে পানি তোলার লম্বা রশি। যেহেতু শয়তান তার প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে মন্দ পথে টেনে নিয়ে যায়, তাই তাকে শয়তান বলা হয়।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘ইবলিসের নাম ছিল আজাজিল। সে ছিল ফেরেশতাদের মধ্যেও সম্মানী। তার চারটি পাখা।’ তিনি অপর বর্ণনায় বলেন, ‘ইবলিস ছিল ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহতায়ালার নাফরমানি করার কারণে তার ক্রোধে পরে শয়তান হয়ে যায়।’ আবু জায়েদ, হাসান, কাতাদাহ প্রমুখ বলেন, ইবলিস জিন জাতির আদি পিতা, যেমন হজরত আদম (আ.) মানবজাতির আদি পিতা। তবে সে ফেরেশতা নয়। গ্রিক ভাষায় তার নাম আজাজিল, আর আরবি ভাষায় হারিস। (তাফসিরে কুরতুবি ১/২৩৬)

কোরআনে শয়তানের বর্ণনা : কোরআনে শয়তানকে মানবজাতির শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনে শয়তানকে ইবলিস নামে ৯ স্থানে ১১ বার উল্লেখ করা হয়েছে। আর কোরআনের প্রায় ৮৮টি আয়াতে শয়তান শব্দটি এক ও বহুবচনে ব্যবহৃত হয়েছে। শয়তানের ব্যাপারে কোরআনের মৌলিক বক্তব্য উল্লেখ করা হলো।

জিনদের অন্তর্ভুক্ত : শয়তান প্রকৃতপক্ষে ফেরেশতা নয়, জিন ছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘তখন তারা সবাই সেজদা করল ইবলিস ছাড়া। সে জিনদের একজন, সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত ৫০)

শয়তান মানুষের শত্রু : ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি যে তোমরা শয়তানের দাসত্ব করো না। কেননা সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?’ (সুরা ইয়াসিন ৬০)

শয়তান মানুষকে প্রতারিত করে : প্রতারিত করার মাধ্যমে শয়তান মানুষকে মন্দ কাজে উৎসাহিত করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সে বলল, আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী করে নেব। আমি তাদের পথভ্রষ্ট করবই; তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই।’ (সুরা নিসা ১১৮-১১৯)

তাওরাত ও ইনজিলে শয়তানের বর্ণনা: ইনজিল কিতাব বস্তুত তাওরাতেরই নতুন সংস্করণ মাত্র। তাই তাওরাত ও ইনজিলে শয়তান সম্পর্কিত বর্ণনা প্রায় অভিন্ন। এই দুই আসমানি কিতাবে শয়তানকে ইবলিস নামে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে মানবজাতির শত্রু ও পাপের উৎস বলা হয়েছে। খ্রিস্ট সমাজে শয়তান লুসিফার নামেও পরিচিত। তাওরাত ও ইনজিলে শয়তান সম্পর্কে যে বর্ণনা রয়েছে সেগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

মানবজাতিকে পথভ্রষ্ট করে : শয়তান মানবজাতিকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ভ্রান্তির পথে পরিচালিত করে। ইনজিলের বিশ্ব সৃষ্টিসংক্রান্ত অধ্যায়ে বলা হয়েছে, শয়তান সাপের ওপর ভর করে বেহেশতে প্রবেশ করে এবং হজরত হাওয়া (আ.)-কে বিভ্রান্ত করে। তিনি নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করেন এবং জান্নাত থেকে বিতাড়িত হন।

শয়তান পাপের উৎস : ইহুদি ও খ্রিস্টান জাতির কাছে শয়তান পাপের উৎস ও অনুপ্রেরণা। ‘পাদ্রিদের প্রতি উপদেশ’ আলোচনায় বলা হয়েছে, ইবলিস পাপের উদ্ভাবক, পাপের উৎস, পাপীদের সরদার ও আল্লাহর শত্রু। সে ফেরেশতাদের ওপরও প্রভাব বিস্তারকারী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত