এ দেশে ফ্যাসিবাদ তছনছ করে দেওয়া হবে : ডা. শফিকুর

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনো জেলে কেন? সরকারকে জবাব দিতে হবে। অচিরেই এই জননেতাকে জনগণের বুকে ফেরত দিন। মুক্তি না দিলে পুনরায় রাজপথে আন্দোলন শুরু হবে। আমরা ফ্যাসিবাদীদের ছেড়ে দেব না। এদেশে ফ্যাসিবাদীদের তছনছ করে দেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার বিকেল ৬টায় নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি এখানে ২৩ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদীদের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের পতন হয়নি। এখনো সড়ক থেকে সর্বত্রই চাঁদাবাজ আর দখলবাজদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। এসব চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে বলেন, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে বলে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা নির্বাচন চাই। নির্বাচনের আগেই খুনিদের বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া পেশিশক্তির নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। এ জন্য যেকোনো নির্বাচনের আগে অবশ্যই দুটি কাজ স¤পন্ন করতে হবে। একটি হচ্ছে খুনিদের বিচার, এটা দৃশ্যমান হতে হবে। আরেকটি হচ্ছে প্রয়োজনীয় সংস্কার। কালোটাকার ভোট চাই না।

জামায়োতের আমির বলেন, জুলাই হত্যাকা-ের বিচার না হলে জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো বিচার, সংস্কার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সংস্কার অপরিহার্য। রাজনৈতিক দলগুলো যত দ্রুত আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসবে, তত দ্রুত নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষের প্রথম দাবি, গণহত্যার বিচার। শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা ও পঙ্গুদের সহযোগিতা নিশ্চিত করে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিচার ও মৌলিক সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের কোনো অর্থ নেই। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংযত ও সচেতনভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় : ‘আমরা ভালো না থাকলে ভারত ভালো থাকবে না এ কথা ভারতের ভাবা উচিত।’ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে লালমনিরহাটের যুবক হাসিবুল নিহত হওয়ার ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল শনিবার দুপুরে লালমনিরহাট কালেক্টরেট মাঠে জেলা জামায়াত ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘হাসিবুল কি মানুষ নয়? একজন মানুষকে বুকের ওপর পা দিয়ে গুলি করে হত্যা করা কি মানবতার মধ্যে পড়ে? আমরা ভারতের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। কিন্তু প্রতিবেশী হয়ে এমন আচরণ চলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে সম্পর্ক চাই। কিন্তু আমাদের কথা না ভাবলে তাদেরও ভালো হবে না, এটা তাদের বোঝা উচিত।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, ‘আমরা একটি নিরপেক্ষ, পেশি শক্তি ও কালো টাকা মুক্ত নির্বাচন চাই। খুনিদের বিচার ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। জনগণ আর প্রতারিত হবে না।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের কর্মসংস্থান ও অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গুম-খুন আর বাক স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করে তারা দেশ চালিয়েছে। কিন্তু জনগণের আন্দোলনে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা কখনো দেশ ছেড়ে পালায় না, বিদেশে বেগমপাড়া গড়ে তোলে না।’

নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা চাকরি করতে পারবে না এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করব, যাতে তারা স্বাধীনভাবে চলতে পারে এবং সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারে।’

শিক্ষা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। শিক্ষিতরা আজ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। অন্যদিকে, দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিতে বাধ্য করছে। আমরা এমন রাষ্ট্র চাই যেখানে সব শ্রেণির মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে।’

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, লালমনিরহাট জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি পুষ্পজিৎ রায়সহ অন্য নেতারা।

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এটাই ছিল জামায়াতে ইসলামীর কোনো আমিরের লালমনিরহাটে প্রথম জনসভা। জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবক হাসিবুলের বাড়িতে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত