গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এদিন ধার্য করে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, চানখাঁরপুলের হত্যাকান্ডের ঘটনায় তদন্ত সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে চার সপ্তাহের সময়ের আরজি জানান তিনি। আদালত সময় মঞ্জুর করে।
এর আগে গণ-আন্দোলনের সময় চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করে গত রবিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রসিকিউশনে দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্য দিয়ে জুলাই- আগস্টে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, পুলিশের রমনা জোনের সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সাবেক এসি মো. ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন এবং কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের চানখাঁরপুলে আসামিরা কর্তৃক নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আট আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আরশাদ, সুজন, ইমন ও নাসিরুলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
চানখাঁরপুল হত্যাকান্ডের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে ছয়জন নিহতের তথ্য দেওয়া হয়। তারা হলেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস, শহীদ শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, শহীদ মোহাম্মদ ইয়াকুব, শহীদ মো. রাকিব হাওলাদার, শহীদ মো. ইসমামুল হক ও শহীদ মানিক মিয়া। ৯০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সময়ের ১৯টি ভিডিও ফুটেজ, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, ২টি অডিও রেকর্ড, বই ও রিপোর্ট ১১টি এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
