সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার খুকনি ইউনিয়নের ইসলামপুর (খুকনি আটারদাগ) গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী ইমন হোসেনকে (১৬) সহপাঠী বন্ধুরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ইমন ইসলামপুর (খুকনি আটারদাগ) গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে ও খুকনি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালে সহপাঠীরা ইমনের খাতা দেখে লিখতে চায়। ইমন তার খাতা দেখতে না দেওয়ায় পরীক্ষার পর ইমনকে প্রথম দফা মারপিট করে। এর পরের দিন শুক্রবার বিকেলে সহপাঠীরা ইমনকে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় হাতুড়ির আঘাতে তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এক সপ্তাহে সে একটু সুস্থ হয়ে উঠলে বৃহস্পতিবার তাকে বাসায় আনা হয়। গত শুক্রবার সকালে সে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে এনায়েতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম এনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ওইদিন রাতেই পুলিশ নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে ইমন হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউসুফ আলী, পিরোজ হাসান, আলামীন হোসেন ও রাহাত আলী।
এ বিষয়ে নিহত ইমনের বড় ভাই আরাফাত, চাচা শহিদুল ও স্বজনরা জানান, গত ১৭ এপ্রিল এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চলতি এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালে সহপাঠীরা ইমনের খাতা দেখে লিখতে চায়। ইমন খাতা দেখতে না দেওয়ায় পরীক্ষা শেষে সহপাঠীরা তাকে প্রথম দফায় মারপিট করে। পরদিন শুক্রবার বিকেলে ইমনের দুই সহপাঠী রাব্বি এবং রাজিম বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আবারও তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। এরপর ওই দুজন ইমনের বাড়িতে ফোন দিয়ে জানায় সে অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। খবর পেয়ে স্বজনরা ইমনকে উদ্ধার করে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। ছয় দিন পর হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। গত শুক্রবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিয়ে ইমনের স্বজনরা এনায়েতপুর ও বেলকুচি থানায় মামলা করতে গেলে সীমানা জটিলতায় কোনো থানাই সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ইমনের বড় ভাই আরাফাত ও চাচা শহিদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে গ্রাম্যপ্রধান মো. লাল মিয়া মোল্লা জানান, মারপিটের ঘটনা শোনার পর আরও গ্রামের লোকজন নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানকার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন ৮-১০ জন মিলে ইমনকে মারপিট করে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। কিন্তু কেন তাকে মারধর করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি জানেন না।
এ বিষয় এনায়েতপুর থানার ওসি রওশন ইয়াজদানী জানান, জিডিমূলে লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মো. আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন। তবে বেলকুচি থানার ওসি জাকেরিয়া হোসেন জানান, ঘটনার শুরু এবং শেষের সার্বিক পর্যালোচনা করে দেখে মামলা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাব্বি এবং রাজিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
