বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অতিরিক্ত পাল্টা শুল্কের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতা করা চেষ্টা করতে চায় বাংলাদেশ। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা ট্রাম্প সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব, সমঝোতা করব। কিন্তু ওদের চটানো যাবে না।’
গতকাল বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এনবিআরের পরামর্শক কমিটির ৪৫তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান, বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ সারা দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমেরিকা সরকার তিন মাস সময় দিয়েছে (আরোপিত শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত)। প্রয়োজনে আরও বেশি সময় চাইব।’
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বের বহু দেশের ওপর নতুন করে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপ করে দেশটি। তবে পরবর্তী সময়ে ৯০ দিনের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফেরে। তবে চীনের উপর আরোপিত শুল্ক স্থগিত করেনি ট্রাম্প।
বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখে আছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে নিয়ে দেশটা গড়ার। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবন-জীবিকা সহজ করা। গালমন্দ খাচ্ছি, সেটা মেনে নিছি। আগামী বাজেটে চেষ্টা করব সহানুভূতিশীল হওয়ার, আপনারাও সহানুভূতিশীল হবেন। উইন উইন অবস্থা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের ধারণা খুবই ভালো। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশের কিছু মানুষের সমালোচনা। তখন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করুন। বিশ্ব ব্যাংক আমাদের সঙ্গে আছে, আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতা চলছে।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইএমএফের ঋণের ব্যাপারে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই। এরই মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রত্যাশার ফুলঝুড়ি থাকবে না এবং বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট দেওয়া হবে বলেও জানান অর্থ উপদেষ্টা। এবারের বাজেট বাস্তবসম্মত হবে। কর অব্যাহতির দিন চলে গেছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এবার বাস্তবসম্মত বাজেট করা হবে। চিরাচরিত বাজেটের মতো করব না। আমরা যা বলব তা করার চেষ্টা করব। আমরা চলেও গেলেও যাতে মানুষ বলে বাজেট ভালো হয়েছিল। বড় বাজেট দেওয়া হতো, কিন্তু বাস্তবায়ন হতো না। কিন্তু আমরা যে বাজেট দিতে চাই, তা বাস্তবায়ন করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়বে। ব্যবসায়ীদেরও প্রতিযোগী হতে হবে। ব্যবসায়ীরা কর দিলে সুবিধা পাবে। কিন্তু অনেকেই কর অব্যাহতি বা কর রেয়াতি সুবিধা চায়। আপনাদের বুঝতে হবে অব্যাহতির দিন চলে গেছে। আমাদের উপর অনেক চাপ আছে। আপনারা যে কর দেন তার সুবিধা আপনি ভোগ করবেন। মনে রাখতে হবে ট্যাক্স দিচ্ছি, বেনিফিট আমি পাব।’
