ভাসানচর থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে আটক ৩৫ রোহিঙ্গা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে চট্টগ্রামে পালিয়ে আসা নারী-পুরুষ-শিশুসহ ৩৫ জনকে আটক করে পতেঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে পতেঙ্গার খেজুরতলা থেকে নগরে প্রবেশের সময় সন্দেহ হলে স্থানীয় জনতা তাদের আটকে রেখে র‌্যাব কে খবর দেয়। পরে র‌্যাব এসে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করে পতেঙ্গা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, খেজুর তলা এলাকায় তাদের অবস্থানের খবর পেয়ে র‌্যাব তাদের আটক করে আমাদের বুঝিয়ে দেয়। আমরা আপাতত তাদের কক্সবাজার পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। কবে তারা যাত্রা করবে সেটি জানতে চাইলে ওসি বলেন, গাড়ি পাওয়া সাপেক্ষে বলা যাবে তারা আজ যাবে নাকি আগামীকাল। এ বিষয়ে র‌্যাব-৭ এর মুখপাত্র মোজাফফর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন ‘দালালের মাধ্যমে তারা নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে টেকনাফের কুতুপালং যাওয়ার জন্য রাতে নৌকা যোগে বের হয়েছিল পরে নৌকাটি চট্টগ্রাম থামায় তারা এখানে নেমে পালাতে চেয়েছে। সেখান থেকে আমরা খবর পেয়ে তাদের আটক করি এবং থানায় হস্তান্তর করি। তবে তথ্যটি অধিকতরভাবে তদন্তের বিষয় রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। গত সপ্তাহে একইভাবে হালিশহর সাগর পারের দিকে একদল রোহিঙ্গাকে শহরে ঢুকতে দেখা গিয়েছে জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা খবর পেয়েছিলাম তবে তাদের সেখানে পাওয়া যায়নি। আমরা এই রুটে আমাদের নজরদারি বৃদ্ধি করেছি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে। এদের প্রত্যাবাসন আটকে থাকায় সেখানে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করে সরকার। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে ১ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে দফায় দফায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভাসানচরে পাঠানোর পর রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সময়ে সেখান থেকে পালানোর খবর শোনা যায়। বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামে রোহিঙ্গাদের ধরা পড়ার ঘটনা ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত