প্রকৃতির ছবি, ক্যালিগ্রাফি, গ্রাফিতিসহ একাধিক মাধ্যমে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। মাসে তার ছবি বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার। পড়াশোনা আর্ট নিয়ে বলেই নয়, বরং তিনি ক্যালিগ্রাফির গল্পে মুগ্ধতা ছড়ানো একজন প্রকৃত শিল্পী। সফল এই শিল্পীর নাম আব্দুর রহমান (রুমি)। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের হালিমাবাদ এলাকায় তার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক। জামিয়া রাহমানিয়ায় পড়া অবস্থায় দেয়াল পত্রিকায় গল্পের প্রচ্ছদ আকার মাধ্যমে তার শিল্পচর্চার পথ চলা শুরু। আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ বেশি।
সিনিয়র এক ভাইয়ের ফেলে দেওয়া রঙ আর কাগজ দিয়ে জল রঙে আঁকা একটি ছবি থেকে তার প্রথম আয়। তাও আট হাজার টাকা। ছবিটি কিনেছিলেন তার শহরের মেয়র। রুমি পড়াশোনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্যবিদ্যালয়ে। চারুকলা অনুষদের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স করেছেন। তিনি যেমন নিজে ছবি আঁকেন, ক্যালিগ্রাফি করেন তেমনি অন্যদেরও শেখান। একাধিক আর্ট ক্যাম্প করেছেন তিনি। অন্য অনেক পেশা থাকতে আর্ট বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে রুমি জানান, এটা তার মনের খোরাক। আর্টে মনের শান্তি মেলে। সেই কারণে গ্রামের নি®প্রাণ শুকনো পাতা ঝরা প্রকৃতিও যেন প্রাণ পায় রুমির ছবিতে। ক্রেতা যেভাবে চান সেভাবে ছবি এঁকে দেন তিনি। আবার নিজের পছন্দমতো ছবি এঁকে রেখে দেন। রুমিকে যারা চেনেন, জানেন তারাই মূলত তার থেকে ছবি ক্রয় করেন। তার ফেসবুক পেজ থেকে ছবি ক্রয় করা যায়।
রুমি একজন প্রতিবাদী ও সত্যনিষ্ঠ শিল্পী। জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রচুর গ্রাফিতি করেন তিনি। তিনি গ্রাফিতির মাধ্যমে অধিকার, স্বাধীনতা এবং সরকারকে প্রতিবাদের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। যা আন্দোলনের মূল লক্ষ্যকে আরও স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে সাহায্য করেছিল।
রুমি অসংখ্য এক্সিবিশনে অংশ নিয়েছেন এবং পুরস্কৃত হয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২২তম তরুণ শিল্পী শিল্প প্রদর্শনী, ২০২০ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ২০২০ অবসকিউর আর্টিস্ট অব বাংলাদেশ, পেইন্টিং প্রদর্শনী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০১৮।
যারা ছাত্র, পড়াশোনা ও আর্ট দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে নিতে চান তাদের জন্য রুমির পরামর্শ হলো, টাইম ম্যানেজমেন্ট করুন, আর্টকে রিলাক্সেশন হিসেবে নিন এবং ছুটির দিনে বড় প্রজেক্ট করুন। পড়াশোনা বা আপনার অ্যাক্টিভিটিসের সঙ্গে আর্টকে মেলানো যায় কি না ভাবুন।
চিহ্ন নামে রুমির একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে আছে চিহ্ন আর্ট গ্যালারি, চিহ্ন আর্ট স্টুডিও, চিহ্ন আর্ট একাডেমি, চিহ্ন ইন্টেরিয়র, চিহ্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ফ্যাশন কর্নার, বুক কর্নার, ক্রাফট কর্নার, ম্যুরাল, টেরাকোটা, কৃত্রিম ঝরনা, মৃৎশিল্প ইত্যাদি। বলা যায় আর্ট এবং আরও অনেক কিছু নিয়ে এক ভিন্ন জগৎ গড়ে তুলেছেন তিনি। অনেক শিল্পী ও দর্শক তার এই আর্ট স্টুডিও দেখতে আসেন। শিল্পবোদ্ধাদের কাছে তার এই আয়োজন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ক্যালিগ্রাফার ছাড়াও তিনি মানুষ হিসেবে অত্যন্ত মানবিক। বন্যাসহ দেশের যেকোনো দুর্গোগে সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে তিনি অসহায়দের পাশে দাঁড়ান। আর্ট ক্যাম্প করে সেখান থেকে উপার্জিত আয়ের টাকা দান করেন।
দ্বিতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী করবেন তিনি। সেটা নিয়েই এখন তার ভাবনা। খুব শিগগিরই এই প্রর্দশনী হবে বলে তিনি জানান। আর বর্তমান কাজগুলো তো চলমান থাকবেই। আরও কিছু কাজ যুক্ত হতে পারে। এগুলোই হলো তার আগামী দিনের ভাবনা।
