প্রধান বিচারপতি বললেন

বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে কোনো সংস্কার স্থায়িত্ব পাবে না

আপডেট : ০৫ মে ২০২৫, ০৭:৩৩ এএম

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একটি অপরিহার্য বিষয়। যদি বিচার বিভাগ স্বাধীন না হয়, কোনো সেক্টরের সংস্কার কার্যক্রমই স্থায়িত্ব পাবে না। বিচার বিভাগে সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে আরও বৃহত্তর সংস্কারের কাঠামো নির্মিত হতে পারে। বর্তমান সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে বিচার বিভাগই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ কার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’

গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অডিটরিয়ামে ‘৭ম এ কে খান মেমোরিয়াল ল’ লেকচার-২০২৫’-এ ‘রিমেইনিং দ্য ফিউচার অব জাস্টিস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কে খান ফাউন্ডেশন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কার রোডম্যাপের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ও পদ্ধতিগত দক্ষতা এই তিনটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ সংস্কার রোডম্যাপ এগিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ এবং ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা দুটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিয়োগ ও অপসারণের একমাত্র ক্ষমতা রাখে।‘ তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের পূর্ণ প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের অধীন একটি আলাদা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, যা সংস্কার অগ্রগতির মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আধুনিক জীবনব্যবস্থায় আমূল  পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা এ পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশ আমাদের একটি প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে বাধ্য করছে যা প্রচলিত নীতিমালা ও ধ্যানধারণাকে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন অপরাধের প্রকৃতিতে এক মৌলিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে যেখানে অপরাধ হতো বাস্তব জগতে, এখন তা ক্রমে স্থানান্তরিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটের মতো ভার্চুয়াল জগতে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম জাফরুল্লাহ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত