সরকার-ইসি চাইলে নিষিদ্ধ করতে পারে

আপডেট : ১০ মে ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কারা নির্বাচন করবে বা কারা করবে না। এটা তো বিএনপির সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। এটি নির্বাচন কমিশন, সরকার ও যারা নিষিদ্ধ করতে চায় তাদের ঐকমত্যের বিষয়।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য কার্টার  সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

মঈন খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত  নেওয়ার মালিক বিএনপি নয়; সিদ্ধান্ত নেবে দেশের মানুষ, নির্বাচন কমিশন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন চাইলে আ.লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারে।’

তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, তারা কি আদৌ নির্বাচনে আসবে? আওয়ামী লীগের একজনও কি গত ১৫ বছরে জনগণকে জিম্মি করার জন্য কোনো ক্ষমা চেয়েছে?’ মঈন খান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যত শিগগিরই নির্বাচন হবে ততই মঙ্গল হবে।’

 বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা হয়ত বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতেও আসতে পারে। নির্দিষ্টভাবে তারা (কার্টার সেন্টারের প্রতিনিধি দল) যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছে, সেটা হচ্ছে নির্বাচনে তারা হয়তো মনিটরিং করতে আসতে পারে। যদি  সেটা হয়, তবে কীভাবে সম্ভব হতে পারে এবং সেটা কখন, মূলত এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ’

কবে নাগাদ নির্বাচন হতে পারে তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, ‘দেখুন আমি কারও সমালোচনা করতে চাই না। একটা ছোট উদাহরণ দিচ্ছি, বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি হয়েছে, আমি তাদেরও বলেছি, আমরা এরশাদের পতনের সময় দেখেছিলাম এশটি কেয়ারটেকার সরকার এবং সেটাও একটি অন্তর্র্বর্তী সরকার। তারাও ৯০ দিনের মাথায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে উপহার দিয়েছিল এবং আজকে পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউ সেটার সমালোচনা করে না’

তিনি বলেন, ‘কাজেই এটা বুঝতে হবে যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে গেলে যে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নিতে হবে তার কোনো  যৌক্তিকতা নেই। নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে করা সম্ভব, এখন তো এরই মধ্যে নয় মাস হয়ে গেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের আলোচনায় আসবে আমরা যদি নাও করি মানুষ চুপ করে থাকবে না। আলোচনা হয়েছে কত দ্রুত এটা করা যায় এবং বিএনপি কখন এ নির্বাচনটি প্রত্যাশা করছে।’

মঈন খান বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের দলের বক্তব্য স্পষ্ট-  যেটা এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন, আমরা বলেছি  যে এ বছরের শেষ নাগাদ যদি নির্বাচন হয় তাহলে এটা জনগণের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। আমরা বিশ্বাস করি, অহেতুক যদি বিলম্ব হয়  যে সমস্যাটি আপনারা দেখতে পারছেন আজকে বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক যে পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি সেটা আজকে থেকে নয় মাস আগে ৫ আগস্টের যে পরিস্থিতি ছিল, তার থেকে ভালো নয়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই যদি দেশের স্থিতিশীলতা কোনো কারণে বিঘিœত হয় তাহলে এটা ১৮ কোটি মানুষের জন্য সুখকর হবে না। সেজন্য একটি কথা আমরা জোর দিয়ে বলেছি যে জনগণের সত্যিকার প্রতিনিধি, সেই সত্যিকার প্রতিনিধি যেটা নির্ধারিত হতে পারে একমাত্র একটা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই নির্বাচনটি যত শিগগিরই হয় তাহলে আমরা বিশ্বাস করি সেটা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে, সেই কথাটি আমরা তাদের বলেছি।’

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের  নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

কার্টার সেন্টারের ছয় সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন  ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর জোনাথন  স্টোনস্ট্রিট। দলের অন্য সদস্যরা হলেন- তারা শরিফ, সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর; মাইকেল বালদাসারো, ডেটা সায়েন্টিস্ট; সাইরাহ জাইদি, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর; ড্যানিয়েল রিচার্ডসন, পিস ও ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট এবং কাজী শহীদুল ইসলাম, স্থানীয় মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ।

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে এ বৈঠক করে কার্টার সেন্টারের প্রতিনিধিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত