স্থলবন্দরে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান চায় ঢাকা

আপডেট : ২১ মে ২০২৫, ০৭:০৯ এএম

স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এলেও এ নিয়ে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্য সচিব এ কথা জানান। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে দুই দেশের মধ্যে সচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে।

সচিব বলেন, ‘আমরা বলব যে এতে করে শুধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই, আপনাদের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজেই আসুন আমরা বসি, একটা সুরাহার পথ বের করি। ভারতের সঙ্গে আমাদের সেক্রেটারিয়েট পর্যায়ের একটা এস্টাব্লিস্ট ফোরাম আছে। বৈঠকের জন্য গত সপ্তাহে আমরা একটা চিঠি পাঠিয়েছি। সেই চিঠির উত্তর এলে আমরা বুঝতে পারব যে কবে বসা যায়।’

গত ১৭ মে ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বৈদেশিক বাণিজ্য দপ্তর (ডিজিএফটি) বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য বেশ কিছু পণ্য ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ফল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য, তুলা, তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক এবং পিভিসি দিয়ে তৈরি জিনিস, রঞ্জকের মতো পণ্য বাংলাদেশ থেকে আসাম, মিজোরাম, মেঘালয় কিংবা ত্রিপুরার কোনো শুল্ক বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে ভারত হয়ে নেপাল বা ভুটানে রপ্তানি করা পণ্যের বিষয়ে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। ভারতীয় সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা এবং ফুলবাড়ি শুল্ককেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে বাংলাদেশ থেকে মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল পণ্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।

এই ঘোষণাটি ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাধা। এর আগে গত এপ্রিলে ভারত বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে। যে সুবিধার আওতায় ভারতীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রপ্তানি করত বাংলাদেশ। ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

 এ বিষয়ে বাংলাদেশের করণীয় ঠিক করতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে আমরা এ বিষয়ে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসেছি, তাদের মতামতটা নিলাম। পরিস্থিতির আর যাতে অবনতি না হয় সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।’ তিনি বলেন, আজকে আমরা আমাদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুনলাম। এটা আমরা আমাদের নীতি নির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করব। ‘আমরা কোন ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মসূচি নেব না, তারা এটা করেছে, আমরা তাদের সঙ্গে এনগেইজ হব।’

বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ছিলেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত