সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে গোপনে রামেকে, ১৩ দিন পর মৃত্যু

আপডেট : ৩১ মে ২০২৫, ০৫:০৩ এএম

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত নাসির উদ্দিন (৪০) মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ১৭ মে রাতে একটি দলের সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, নাসির উদ্দিন শ্যামকুড় গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গোপনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি গত ১৩ দিন ছিলেন চিকিৎসাধীন। ঘটনার রাতে নাসিরের সঙ্গে থাকা পদ্মপুকুর গ্রামের রিপন ও অনন্তপুর গ্রামের সোহাগও গুলিবিদ্ধ হন, তবে তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, নাসিরের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও পরিবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেনি। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহানুর রহমান বলেন, ‘ভাতিজার (নাসির) মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু কীভাবে মারা গেছে, তা পরিষ্কার নয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়।’

গ্রাম পুলিশ সদস্য ফেরদৌস খান জানান, পরিবার গুলির বিষয়টি অস্বীকার করলেও এলাকাবাসী বিএসএফের গুলিতে নাসিরের মৃত্যুর কথা বলছেন। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। খোঁজ নিচ্ছি।

৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে বিজিবি পাঠানো হয়েছে, তবে পরিবারের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে একই সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাঘাডাঙ্গার ওয়াসিম ও গোপালপুরের ওবাইদুর রহমান নিহত হন। তাদের মরদেহ এখনো ফেরত আসেনি। বিজিবি সূত্র জানায়, মরদেহ ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে থাকায় কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ফেরত আনতে বিলম্ব হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত