ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে জয়ী হবে বিএনপি

আপডেট : ০২ জুন ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা বলেছি, নির্বাচন ডিসেম্বরে হলে নির্বাচন কমিশনের সুবিধা, সরকারেরও সুবিধা, জনগণেরও সুবিধা। সেটা আমরা যুক্তি দেখিয়েছি। যদি অন্য কোনো যুক্তি থাকে সরকার পরিষ্কার করুক। করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুক। সেটা ছিল তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) দায়িত্ব। না বলে বিদেশে গিয়ে বলেছেন, শুধুমাত্র বিএনপি নির্বাচন চায়। এটা সঠিক না। আপনারা আজকে পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন, তারপরে জাতীয় পত্রিকায় লেখা হয়েছে ৫২টি দল একত্রিত হয়ে নির্বাচন ডিসেম্বরে চায় এবং সে দলগুলোর নাম, নেতাদের নাম, তাদের বক্তব্য পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।’

গতকাল রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় জাপানের নিক্কেই এশিয়া ফোরামে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া বক্তব্যের ড. মোশাররফ এ কথা বলেন।

ড. মোশাররফ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এখন যদি প্রশ্ন ওঠে যে, আপনার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) ওপরে যেখানে আমাদের এত বড় বিশ্বাস, আপনি কেন বাংলাদেশের জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করবেন। কেনই বা আমাদের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন। আমরা এখনো আশা করি, তিনি এ কথা উপলব্ধি করবেন, উপদেষ্টারা যারা অতিরিক্ত কথা বলে তাদের কর্মকা-ের মাধ্যমে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে যদি একটি ছোট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে, তাদের পক্ষেই সেই জাতীয় নির্বাচনটা করা সুন্দর হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিই দেশের একমাত্র জনপ্রিয় দল এবং সরকারে থাকা অনেকেই স্বীকার করেন যে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জয়ী হবে।’ অন্তর্বর্তী সরকারকেও একসময় বিদায় নিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি, ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পারবে। এর থেকে সম্মানের আর কিছু হতে পারে না। এ থেকে বিলম্ব হলে এমন ষড়যন্ত্রের মুখে পড়বেন যে কখন নির্বাচন হয়, তা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।’

জুনে নির্বাচন হলে দেরি হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এতে পলাতক স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র বাড়বে এবং কিছু নমুনা দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ রোজা ও ঈদে চলে যাবে। এপ্রিল-মে মাসে পাবলিক পরীক্ষা এবং জুনে বর্ষাকাল। তাই ডিসেম্বরেই সম্ভব। সরকার যেদিন মনে করুক, তারিখ ঘোষণা করুক।’ সংস্কার নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা আবার ডেকেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম ঐকমত্য হলে নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত।’ এ সময় জিয়াউর রহমানের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের আনহ আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের দুয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। তারা চেয়ারে বসার পর তাদের আত্মীয়স্বজন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লাইসেন্স করা শুরু করেছেন। এতে দেশের ক্ষতি হলো, তাদেরও ক্ষতি হলো। ছাত্রদের উপদেষ্টা করা বিরাট ভুল হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা যে রাজনৈতিক দল গড়েছেন, সেটি আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হতে পারত। তারা যদি এখনই ক্ষমতায় যাওয়াকে বাদ দিয়ে দল সৃষ্টি করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু অল্প বয়সে মন্ত্রিপরিষদে ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের নষ্ট করে দেওয়া হলো। ছাত্রসমাজের এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করার বয়স, তারা চাইলে সনদ নিয়ে এসে রাজনীতি করতে পারেন। কিন্তু এখন তারা বারবার তদবির করে, মবোক্রেসি করে, সচিবালয়ে হাজির হয়ে অটোপাসের দাবি করেন। এই লড়াকু ছাত্রদের ভুল পথে পরিচালিত করেছে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত