সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার আলোচনা আজ সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। দ্রুত এ সংলাপ শেষে জুলাই সনদ ঘোষণা করা হবে। আর আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ৩০ জুনের মধ্যে। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চার দিনের জাপান সফর উপলক্ষে মূলত ওই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এ সফরটি ছিল খুবই সফল। এতে বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠবে। প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে মন্তব্য করে প্রেস সচিব বলেন, ‘এ সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো তারা আমাদের ডেভেলপমেন্ট পলিসি লোন, যেটাকে বাজেট সাপোর্ট বলে, তারা ৪১৮ মিলিয়ন ডলার আমাদের দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা যত আশ্বাস চাচ্ছিলাম, তারা বলেছে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে থাকবে।’
প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ রেললাইনের জন্য ৬৪১ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করবে জাপান। এর বাইরে জাপান ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ও স্কলারশিপের (মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বৃত্তি) জন্য।
মহেশখালী-মাতারবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্পে জাপান সহায়তা করবে জানিয়ে প্রেস সচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২৯ বিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ প্রকল্পে বেশিরভাগ সহায়তা করবে জাপান। বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানানোর স্বপ্ন দেখেন অধ্যাপক ইউনূস।
জাপানের প্রধান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকে আমরা ভালো রেসপন্স পেয়েছি। আমরা আশা করছি, অনেক বড় বড় জাপানি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের পর দেশে চীনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী হয়েছে।’
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে জাপান বিভিন্ন খাতে এক লাখ মানবসম্পদ নিতে চায় জানিয়ে শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘এ সফরের ফলে আমি মনে করি, জাপানের ম্যানপাওয়ারের মার্কেট একটি নতুন দুয়ার খুলল। এটার জন্য কিছু অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে। এ লক্ষ্যে ড. ইউনূস একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। একটা সমন্বিত উদ্যোগ আমরা নিলে এক লাখ কেন, হয়তোবা আমরা এর চেয়ে বেশি পাঠাতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে ভিসা প্রক্রিয়া ও অন্যান্য বিষয় সহজ হওয়ায় এক সেমিস্টারে (ছয় মাস) তিন হাজার বাংলাদেশি জাপানে পড়তে গেছেন। এটা বাড়িয়ে ১০ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানে বাংলাদেশের ‘ইমেজ ক্রাইসিস’ (ভাবমূর্তি সংকট) আর থাকবে না বলেও জানান শফিকুল আলম।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘এটা (নির্বাচন) আগামী বছর ৩০ জুন মানে এর বেশি যাবে না। এর মধ্যে এটা ডিসেম্বরে হতে পারে, জানুয়ারিতে হতে পারে, ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে, মার্চেও হতে পারে, এপ্রিলে হতে পারে, মে মাসেও হতে পারে, জুনেও হতে পারে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক : ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, আগামীকাল (আজ) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুরু হবে। সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত আছে, তাদের সবাইকে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এ বৈঠকের উদ্বোধন করবেন।
বৈঠকটি কয়েক দিন চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহার আগে এবং পরে আরও কিছু বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি যে, শিগগির দ্বিতীয় দফার ওই আলোচনা শেষ হবে এবং এরপরই জুলাই সনদ ঘোষণা হবে, যেখানে সবাই সই করবেন।’
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিকেল সাড়ে ৪টায় এ আলোচনা উদ্বোধন করবেন কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আহম্মদ ফয়েজ উপস্থিত ছিলেন।
