নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে ষষ্ঠ কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আদালতের আদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতীকের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছি। ২০০৮ সালে একই প্রজ্ঞাপনে জামায়াতকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। আরপিও (রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন) অনুযায়ী, কোনো দলকে প্রতীক দেওয়া হলে তা ওই দলের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তাই নিবন্ধন ফিরে পেলে জামায়াত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও ফিরে পাবে।’ তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ আমরা বিশদভাবে পর্যালোচনা করেছি। রেফারেন্সগুলোও খতিয়ে দেখেছি। আমরা মনে করি, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ইসি তার দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে।’
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরে ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবির এবং তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ সময় দেশে ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলন চলছিল। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির এবং তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
