নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আরও ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনায় ৩২ জনকে পুশইন করা হয়েছে এবং সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ৬ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নাগরিকরা বিভিন্ন কারণে ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের হাতে আটকের পর ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
নেত্রোকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর সীমান্ত দিয়ে গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে বিএসএফ ৩২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করে। এদের মধ্যে ২২ জন নারী, ৯ জন পুরুষ এবং ১ জন শিশু।
বিজয়পুর বিওপির ১১৪৮/৬ এস পিলার থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জগৎকুঁড়া এলাকায় তাদের পুশইন করা হলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের আটক করে।
নেত্রকোনা ৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক আব্দুল আউয়াল জানান, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের বিজয়পুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, ঢাকা, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, শেরপুর ও দিনাজপুর জেলায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠক করে ৬ জন হস্তান্তর : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী সীমান্তে গত সোমবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের হাকিমপুর এলাকায়, মেইন পিলার ১৩-এর সাব পিলার ৩ এবং রেফারেন্স পিলার ৭ ও ৮-এর মধ্যবর্তী স্থানে এই বৈঠকে বিএসএফ ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মাদরা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. শাহ আলম এবং বিএসএফের পক্ষে হাকিমপুর কোম্পানি কমান্ডার এসি স্বজন দ্বীপ।
কলারোয়া থানার ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, হস্তান্তরকৃতদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। পরে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
